ঢাবিতে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ, গাড়ির ধাক্কায় আহত শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গাড়ি চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দিয়েছেন সাদমান সাকিব নামে এক শিক্ষার্থী। এতে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত তাহিয়ার পা ভেঙে গেছে।
দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাদমান গাড়ি চালানো শিখছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন তিনি। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে গেছে। দুর্ঘটনার পর তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাদমানকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তার বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
সাদমান সাকিব জানান, আগে তিনি তেমন গাড়ি চালাননি। শখের বশে সেদিন গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। তার সঙ্গে চালকও ছিলেন। গাড়ি চালাতে চালাতে কলা ভবনের দিকে একটি চক্কর দিয়ে আসেন তিনি।
সাদমান বলেন, ‘ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক নিতে গিয়ে আমি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে দিই। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে ড্রাইভারের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’
তবে দুর্ঘটনার আগেও গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সিনহা মল্লিক।
তিনি বলেন, ‘আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শ্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস রোডে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশ্যে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত সেবার দুর্ঘটনাটি ঘটেনি। পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে তারা লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। প্রক্টর কার্যালয় এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল প্রাং সমকালকে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলে। কিন্তু আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করব না। সংক্ষুব্ধরা যদি মামলা করতে চায়, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রক্টর জানান, সাদমান তার বাবাকে না জানিয়েই গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। তিনি গাড়ি চালাতে পারেন না। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এসে ব্রেক করতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় গাড়িটি একটি রিকশায় ধাক্কা দেয়।
প্রক্টর বলেন, এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাদমানের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













