ছয় মাসেই ভাঙল পুনঃখনন খাল, ফেরত ৬৪ লাখ টাকা

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৪
অ- অ+

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ছয় মাসের মধ্যেই পাড় ভেঙে রাস্তা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে খালের পাড়ে ধস, রাস্তা নির্মাণ ও গাছ না লাগিয়ে কাজের গুনগতমান সঠিক আছে এবং খালের ভেতরে পানি চলাচল অব্যাহত আছে বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

আর ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রকল্পের ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪৯ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম পলিশা মোড় থেকে দুধিয়াগাছা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। প্রকল্প অনুযায়ী খালের প্রস্থ ৯ দশমিক ১৬ মিটার ও গভীরতা ৪ মিটার নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি দুই পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ এবং ২ হাজার ৬০টি গাছ লাগানোর কথা ছিল। চলতি বছরের ১৬ মার্চ খাল পুনঃখনন, রাস্তা নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কাজের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল পুনঃখননের আগে যেভাবে পানি প্রবাহিত হতো, তা যথেষ্ট ছিল। নতুন করে খননের পর দুই পাড় ভেঙে কৃষিজমি ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, খালটি শ্রমিক ও বেকু দিয়ে পুনঃখনন করার কথা থাকলেও তা শুধু বেকু দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ টুকন মিয়া বলেছেন, খালের দুই পাশে রাস্তা করা হলে পাড় ধসে পড়তো না। পাড় ধসে খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিকভাবে যাচ্ছে।

দুধিয়াগাছা এলাকার মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, খালের পাড় ঘেঁষা দুই বিঘা জমিতে আমি ধানের আবাদ করেছি। কিছুদিন আগে খালটি খনন করা হয়েছে। শ্রমিক দিয়ে খালের পাড় ভালো করে দুরমুজ করা হতো ও দুই পাড়ে গাছের পাশাপাশি যদি ঘাস লাগানো হতো তাহলে পাড় ধসে যেতো না। কিন্তু এখানে এসবের কিছুই করা হয়নি।

স্থানীয় কৃষক মো.সিরাজ মিয়া জানিয়েছেন, এখানে শুধু বেকু দিয়ে খালের তলা থেকে কিছু মাটি তোলা হয়েছে। লোকজন দিয়ে দুই পাড়ের কোনো কাজ করা হয়নি। এখানে দুই পাড়ে রাস্তা করা হলে মানুষ চলাচল করতে পারলে পাড় আর ধসে পড়তেন না।

প্রকল্পের সভাপতি ও আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রকিবুল হাসান বলেন, এই খালটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে পুনরায় খাল খনন শুরু হয়। এখানে পাঁচ ফুটের রাস্তা করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু অংশ ধসে পড়েছে। সেখানে লাগানো গাছগুলো পড়ে গেছে। খাল খননে এলাকার মানুষের উপকার হয়েছে। আর আমাদের এই প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজ করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজান কাকা (মিজানুর রহমান রতন)।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন বলেছেন, কাজটি করেছে পিআইও অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ। আমি এমপির নির্দেশ্যে তদারকি করেছি। এখানে আমার কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, খালটি আগে থেকেই ছিল। নতুন করে খাল খনন করি নাই। বিদ্যমান খালটি পুনঃখনন করেই পানি প্রবাহের ধারা যেন অব্যাহত থাকে, সেই কাজটাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করেছি। বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বালু অঞ্চল। বৃষ্টির কারণে বালুমাটি পানির সঙ্গে চলে গেছে। যেখানে খালের পাড় ধসে গেছে সেখানেও গাছ ছিল। সেটা হয়তো পড়ে গেছে। তবে আমাদের গাছ লাগানো কার্যক্রম চালু আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এডিবি এবং এলজিইডির মেরামত প্রকল্পে তালিকা করেছি। খুব দ্রুত জনগণের দূর্ভোগ লাঘব হবে।

প্রসঙ্গত, ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক না পাওয়ায় প্রকল্পটির ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪৯ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।

(ঢাকা টাইমস/২৪অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অসুস্থ হাজতিকে ঢামেকে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন
স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার, আসছে রোবটিক সার্জারি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, নিহত ৪ পাইলট