১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২২৩ টাকা, বাড়ল অটোগ্যাসের দামও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৭
অ- অ+

ভোক্তাদের জন্য আবারও বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সোমবার (২ নভেম্বর) নতুন এ দাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও।

বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার রাত ৮টা থেকে এলপিজির নতুন দাম কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কমিশনও বাড়িয়েছে বিইআরসি। নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারে নির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাস

বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে ঘোষিত দামে গ্যাস পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তখনই সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়।

এর আগে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে আমদানিকারকদের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে থাকে সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখিয়ে পাঁচটি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব কোম্পানি বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত করে রাখে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরির মতো পরিস্থিতি ছিল না বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব গণশুনানিতে

এলপিজির মূল্য নির্ধারণ ও ব্যবসায়ীদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করে বিইআরসি। সেখানে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়া এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।

শুনানিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে বিইআরসি। তখন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে সংস্থাটি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
যশোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নোহা মাইক্রোবাস যশোরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান 
বাঁশখালীতে ১৭৪ ভবনের মেয়রের একক সিদ্ধান্তে নকশা অনুমোদন, দুদকের মামলা