ব্যাংকের লাখ টাকার বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা

সঞ্জয় দে
 | প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০১৭, ১১:০২

ঘোষিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের একটি বিষয় এখন খুব আলোচিত। তা হচ্ছে, ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা থাকলেই বছরে ৮০০ টাকা কেটে রাখা হবে। এই তথ্যটি কীভাবে পাওয়া গেল বুঝতে পারছি না।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, 'বছরের যে কোনো সময় অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডেবিট কিংবা ক্রেডিট হয়, এমন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে না। এখন তা ১ লক্ষ টাকার উপরের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ১ লক্ষ্য টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা, ১০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষেত্রে ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বিদ্যমান ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।'

এর মানে দাঁড়ায়, একটি একাউন্টে যত টাকাই থাকুক একসঙ্গে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা সেখান থেকে না তুললে (ডেবিট) বা একসঙ্গে এই পরিমাণ টাকা জমা (ক্রেডিট) না দিলে এই আবগারী শুল্ক কার্যকর হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এমনকি আপনি প্রতি ট্রানজেকশন ৯৯,৯৯৯ টাকায় আটকে রাখলেও আবগারী শুল্ক এড়াতে পারবেন। অথচ বিদায়ী অর্থবছরেও ২০ হাজার টাকা একসঙ্গে তুললে বা জমা দিলে বছর শেষে ৫০০ টাকা শুল্ক যোগ হতো।

এ বিষয়ে আরো পরিষ্কার হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারাও এই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। এটা সত্যি হলে বরং কম অর্থ (১ লাখের নিচে) লেনদেনকারীদের স্বস্তি বাড়ছে। আর করের বোঝা চাপছে বিত্তশালীদের ওপর।

প্রথম আলো কী করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সায়েমের ১ লাখ ২০ হাজার টাকার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০ টাকার আবগারি শুল্ক কেটে নিলো (যদি না তিনি বছরে অন্তত একবার ২০ হাজার টাকা এককালীন লেনদেন করেন) সেটি তারাই বলতে পারবে। আর ৫ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংক হিসাবধারীদের 'তেমন সমস্যা নেই' বলতে তারা কী বোঝাচ্ছে সেটাও ঠিক বুঝতে পারিনি, যেখানে এককালীন ৫ কোটি টাকার ওপরের লেনদেনে আবগারি শুল্ক ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এমনকি বিডিনিউজ তাদের প্রতিবেদনে মোটামুটিভাবে বিষয়টি উল্লেখ করলেও শিরোনাম কেন 'ব্যাংকে লাখ টাকার বেশি থাকলে বাড়তি কর' হলো তার ব্যাখ্যাও এখনো জানি না।

সঞ্জয় দে: সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত