‘আর সংরক্ষিত এমপি নয়, এবার সরাসরি নির্বাচন’

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৭, ০৮:৪৪

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ হোসেইন। তার আরেক পরিচয় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কে ফোর্সের প্রধান খালেদ মোশাররফের মেয়ে।

জামালপুরের ইসলামপুর আসন থেকে ছয় বার সংসদ সদস্য ছিলেন মাহজাবিনের চাচা রাশেদ মোশাররফ। তার মৃত্যুর পর সরাসরি রাজনীতিতে আসা। কাজ করছেন মানুষের জন্য, কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনে যেমন ইচ্ছা, ততটা কাজ করা কঠিন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরাসরি ভোটে দাঁড়াবেন। দল মনোনয়ন দেবে, এই আশায় এরই মধ্যে নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। এ নিয়ে মাহজাবিন মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকাটাইমসের। তুলে ধরেছেন তার জীবনের অতীত, বর্তমানের নানা দিক, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। আলাপচারিতায় ছিলেন মহিউদ্দিন মাহী। 

মাহজাবিনের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৮৩ সালে হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। চার বছর পর ভারতের দার্জিলিংয়ের ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির লরেটো কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক পাস করেন। মাস্টার্সও করেন সেখান থেকেই।

কর্মজীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করার সুবাদে জাতীয় স্বার্থের সমকালীন বিষয়, মানবাধিকার, আইনের শাসন, ইন্টারফেইথ ইস্যু, পিস, ইকোনমি এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থেকেছেন মাহজাবিন।

আপনি তো একসময় সামাজিক কর্মকণ্ড নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, এখন তো পুরোদস্তুর রাজনীতিক

আসলে আমি যে রাজনীতিক হবো, তা কল্পনাই করিনি। কারণ আমার চাচা (রাশেদ মোশাররফ) রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ছয় বার এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন। আমার কখনই রাজনীতিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কারণ মা বলতো চাচা রাজনীতি করেন। আর কাউকে রাজনীতি করতে হবে না। তাকে (চাচাকে) ডিস্টার্ব করো না। হঠাৎ করেই রাজনীতিতে চলে আসা।

কখন থেকে রাজনীতিতে জড়ালেন?

রাজনীতিতে জড়ানোর ঘটনাটিও কাকতালীয়। ২০১২ সালে আমার চাচা মারা যান। এরপর ইসলামপুরে (জামালপুর) যাই। সেখানে যাওয়ার পর মানুষজন আমার মাকে ধরেন। তারা বলেন, আপনাকে (মাকে) রাজনীতি করতে হবে। আমাদেরকে যিনি ছায়া দিতেন তিনি মারা গেছেন। এখন আমাদের ছায়া দেয়ার মতো কেউ নেই। তখন আমার মা বলেছেন আমি রাজনীতি করবো না। আমার মেয়েরা চাইলে করতে পারে। তখনই আসলে আমার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। এরপর থেকেই আমি নিয়মিত এলাকায় যাই।

২০১২ সালের আগে আপনি কি করতেন?

আমি এর আগে সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। অন্ধদের নিয়ে কাজ করেছি। মূলত আমি আমার স্বামীর ব্যবসায় সময় দিতাম।

আপনার স্বামী কী করেন?

আমার স্বামী একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায় আমি সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম এটা আমার ভালো লাগে না। এরপর সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ি।

আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কী অবস্থা?

আমার দুই ছেলে। কানাডায় টরেন্টতে পড়াশোনা করে। আর আমার মেঝ বোন দুবাই থাকেন। তার স্বামীর বাড়ি সিলেটে। সে দুবাইতে একটি ব্যাংকে জব করেন। আর ছোট বোন ঢাকায় থাকে। তার স্বামীও ব্যবসায়ী।

সরাসরি ভোটে অংশ নেবেন?

যেহেতু রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছি তাই আমি চাই সরাসরি ভোটে অংশ নিতে। কারণ একজন নির্বাচিত সাংসদ যেভাবে কাজ করতে পারেন, সংরক্ষিত আসনে থেকে সেভাবে কাজ করা যায় না। আর গত নভেম্বর থেকে নির্বাচনি কাজ শুরু করেছি।

কী ধরেন কাজ করছেন?

আমি প্রথমে উঠান বৈঠক শুরু করেছি। প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি উঠান বৈঠক করেছি। এখন আমি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছি।

আপনি মনোনয়ন পেলে দলকে জিতিয়ে আনতে পারবেন?

অবশ্যই। আমি একজন সৈনিকের মেয়ে। আমি প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। আমাকে নমিনেশন দিলে আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবো।

দলে কোন কোন পদে আছেন?

আমি জামালপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলের সব কর্মকাণ্ডে আমি সক্রিয়।

ঈদ কোথায় করবেন?

ঈদ করবো ইসলামপুরে। সেখানে আমার বাবা খালেদ মোশাররফ স্মৃতি সংসদ করেছি। এই সংসদের মাধ্যমে আমি কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ড করে থাকি। এবারও তাই করবো।

সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ঢাকাটাইমসকেও ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত