সচেতনতার শক্তি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী

ড. আনোয়ার হোসেন
 | প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০২৪, ১২:৩২

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সংগঠন ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি অ্যালকোহলের সভাপতি এবং দেশের একমাত্র সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদকবিরোধী সংগঠন প্রতিভা এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি মাদক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মাদককারবারিদের দ্বারা একবার অপহৃতও হয়েছিলেন। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন ড. আনোয়ার হোসেন।

তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল দেশের বড়ো সমস্যা কী বলে আপনি মনে করেন? আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রশি দিয়ে পাগল বাধা হয়। কিন্তু রশি নিজে যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে সমস্যা। আমাদের দেশের এটাই এখন বড়ো সমস্যা। আমাদের সকল সেক্টরে একই অবস্থা বিরজমান।’

সমস্যা সমাধানের জন্য কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন। এমন প্রশ্নে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসলে বিশ্বব্যাপী সমস্যা সমাধানের জন্য শক্তি প্রয়োগের চিন্তা করা হয়। এই ভুল কাজ বন্ধ করতে হবে। কারণ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করলে মগজে থেকে হয়; মন থেকে হয় না। আর মন থেকে না আসলে ওই কাজ টেকসই হয় না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হলে ‘শক্তি প্রয়োগ’ নামে কোনো শব্দই অভিধানে থাকবে না। পৃথিবীর এমন দেশ আছে যেমন- নিউজিল্যান্ড-রাশিয়া; যেখানে প্রায়শই পুলিশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। আমরা যে সময়কে স্বর্ণযুগ বলে থাকি, তখন এই ধরনের আদালত ছিল না। যেমন- হযরত ওমর (রা.)। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিচারকরা ওমরের শাসনকালের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রতিটি কাজের পূর্বেই সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। আমাদের মানসিকতার পবির্তন করতে হবে।’

সচেতন করলেই যে শুনবে বিষয়টা কি আদৌতে এমন? প্রতিভা এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন- ‘আমি মনে করি, সচেতনতার শক্তি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। কারণ, পারমাণবিক বোমা দিয়ে কেবল ধ্বংসই করা যায়। অথচ সচেতন করে সবকিছুই করা যায়। প্রকৃতপক্ষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অসাধ্যকে অবশ্যই সাধন করা সম্ভব।’

মাদক নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন- ‘আজকের মাদকাসক্ত ব্যক্তি আগামী দিনের মাদক ব্যবসায়ী। কিছু সংখ্যক লোক মনে করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মাদক সম্বন্ধে যেহেতু কিছুই জানে না, সেহেতু তারা মাদকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সচেতন করলে তাদের খপ্পড়ে পড়ার সম্ভবনা একদমই কম। আমরা মূল কর্মসূচি অর্থাৎ ক্ষতিকর নেশা বিরোধী কাউন্সিলিং, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাদকবিরোধী ভিডিয়ো ফুটেজ প্রদর্শন এবং র‌্যালি করছি। এতে পূর্বে মাদকাসক্ত ছিল বর্তমানে সুস্থ এমন ব্যক্তিকে সরাসরি কর্মসূচিতে উপস্থিত করা হয়। তারা নিজেদের মুখে নেশাগ্রস্থ থাকাকালে তাদের দুর্দশার ঘটনা তুলে ধরেন।’

আপনি নিজে কীভাবে অপহৃত হয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন- ‘২০১২ সালের আগস্ট মাস। তখন দিনাজপুর ছিলাম। নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দাউদপুর ডিগ্রি কলেজের মাদকবিরোধী এক কর্মসূচি করি। জায়গাটা বাংলাদেশ-ভারতের হিলি সীমান্তের নিকটবর্তী। কর্মসূচির আগে মাদক কারবারিরা আমাকে প্রায়শই জীবননাশের হুমকি দিতো। বিষয়টি আমি দাউদপুরের কর্মসূচির আগেই সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে বলি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নিয়ে নিজেই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি নিজেও মাদকবিরোধী কনসার্টে গান করেন। কর্মসূচির পর আমি সিলেট যাই। সেখানে উপ-শহরে হোটেল স্টারে আমি রাতযাপন করি। সেখান থেকে অন্যত্র যাওয়ার পথে আমি অপহরণের শিকার হই।’

এরপর কী হলো? জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন- ‘অপহরণকারীরা আমার মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনা পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় জিডি করা হয়। অপহরণকারীরা আমাকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তামাবিলে নিয়ে যায়। পরে পথ পরিবর্তন করে যশোর নিয়ে যায়। এরপর কোনো এক গ্রামের ভিতর দিয়ে পার্শ¦বর্তী দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় চারমাস পর সেখান থেকে আমার মুক্তি মেলে।’ মাদককারবারিদের সঙ্গে পেরে উঠতেছেন না কেন প্রশ্নে আনোয়ার হোসেন বলেন- ‘অনেকে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করলে বাস্তবায়ন সহজ হবে। আমি কিছু প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছি যাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম করলে সকল নাগরিকদের প্রত্যক্ষ সংযোগ পাওয়া সম্ভব। তাদেরকে সচেতন করলে তারা এবং তাদের মাধ্যমে পুরো জাতিকে সচেতন করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা: এস. এম. মঞ্জুরুল হক 

‘স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে সরকারকে ভারসাম্যমূলক নীতি-উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’: ড. আতিউর রহমান

প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল আর্মিরা ধরে নিয়ে যাবে: ফরিদা খানম সাকি

দাম বাড়ালে এতক্ষণে কার্যকর হয়ে যেত: ক্যাব সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন

জন্ম থেকেই নারীদের যুদ্ধ শুরু হয়: নারী উদ্যোক্তা ফরিদা আশা

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই

ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম করা উচিত: কাউন্সিলর আবুল বাশার

তদারকি সংস্থা এবং ভবন নির্মাতাদের দায়িত্বশীল হতে হবে: অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান

বেইলি রোডের আগুনে রাজউকের ঘাটতি রয়েছে: মো. আশরাফুল ইসলাম

নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে ভবন অনুমোদন দিতে হবে: ইকবাল হাবিব

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :