ঝিনাইদহে ড্রাগন চাষে সাফল্য

কোরবান আলী, ঝিনাইদহ
 | প্রকাশিত : ১৪ জুন ২০১৭, ২১:১২

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন আশরাফ হোসেন স্বপন। এ বছর (মে-নভেম্বর) মাস পর্যন্ত ৭ মাসে ২২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে তার। জমি থেকেই ঢাকার ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন তিনি। জৈব সার ব্যবহার করায় তার জমিতে ড্রাগন ফলের সাইজ ও কালার দুটিই ভালো হচ্ছে।

ড্রাগন চাষি স্বপন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে।

আশরাফ হোসেন স্বপন জানান, ২০১৪-১৫ সালের দিকে তার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ৩ হাজার ড্রাগন চারা লাগান। চারাগুলো ময়মনসিংহ থেকে ১২০ টাকা দরে ক্রয় করেন। ২ বছরে তার এই ড্রাগন বাগানের পেছনে ৮-১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর থেকে ড্রাগন গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। একটি ড্রাগন গাছে ২৫-৩০টি ফল এসেছে। ফলের কালার এবং সাইজও ভাল। তিনটিতে এক কেজি হচ্ছে।

তিনি জানান, ফুল আসার ৪৫ দিনের মাথায় ড্রাগন তোলা যায়। গত ১৫ মার্চ থেকে পাকা ড্রাগন ফল বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। ঢাকার ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে ৩৫০-৪০০ টাকা দরে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচুর চাহিদাও রয়েছে এ ফলের। স্বপন আশা করছেন, তার ড্রাগন বাগান থেকে মে-নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল সংগ্রহ করা যাবে।

তিনি বলেন, জমিতে তিনি রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। জৈব সার ব্যবহার করে ড্রাগন চাষ করছেন। তিনি ড্রাগন ফলের পাশাপাশি ড্রাগন গাছের চারাও উৎপাদন শুরু করেছেন। একটি চারা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এলাকার অনেক কৃষক তার কাছ থেকে এই চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

ড্রাগন বাগানের পাশাপাশি এর আগে স্ট্রবেরি চাষ করেও সাফল্য পেয়েছিলেন স্বপন। ড্রাগন বাগানেই তিনি উন্নত জাতের শরিফা চারা লাগিয়েছেন। ৩শ শরিফা গাছ থেকে আগামী একবছর পর তিনি ফল আশা করছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বাংলাদেশে অপ্রচলিত একটি ফল ড্রাগন। ক্যাকটাস গোত্রের এই ফলের গাছ দেখে সবাই একে সবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। সাধারণত মধ্য আমেরিকায় এ ফল বেশি পাওয়া যায়। ড্রাগন ফল দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয়। এর স্বাদ হালকা মিষ্টি। আমেরিকাসহ এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে।

তিনি জানান, ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকায় এ ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটেসহ বড় বড় শহরের বিভিন্ন শপে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকার মাটি ড্রাগন ফলের জন্য বেশ উপযোগী। স্বপনকে কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। অধিক লাভজনক ব্যতিক্রমী এ চাষে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রত আহবান জানান।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুন/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত