ঢাকা-৮

মেননের আসনে আ.লীগের প্রার্থী চান নেতাকর্মীরা

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:১৪

রাজধানী ঢাকার একেবারে প্রাণকেন্দ্রের আসন ঢাকা-৮। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, দেশের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ দিন ধরে এ আসনে নেই আওয়ামী লীগের কোনো সংসদ সদস্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দলের প্রার্থী চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ঢাকা-৮ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বন্টনের পরে রাজধানীর মতিঝিল-রমনা-পল্টন থানা নিয়ে গঠন করা হয় ঢাকা-৮ সংসদীয় আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড এ আসনের আওতাভুক্ত।

এর আগে এ আসনের মতিঝিল ও পল্টন থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-৬ ও রমনা থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-১০ আসনের অধীনে ছিল।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও ঢাকা-১০ আসন থেকে বিএনপির মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান নির্বাচিত হন। মান্নান দলত্যাগ করলে উপনির্বাচনে বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু নির্বাচিত হন ঢাকা-১০ আসনে।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী ও ঢাকা-১০ আসন থেকে আওয়ামী লীগের ডা. এইচ বি এম ইকবাল নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের আওয়ামী লীগের কোন সংসদ সদস্য নেই।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বিএনপি প্রার্থী হাবিব উন নবী খান সোহেলকে পরাজিত করেন। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন রাশেদ খান মেনন। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, এ আসনে দলের কাউকে প্রার্থী করার।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এ সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত দেশের রাজনীতির সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, বাণিজ্যিক পাড়া মতিঝিল অবস্থিত। তাই আসনটির গুরুত্ব অনেক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আওয়ামী লগের কোনো এমপি নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাইকমান্ড দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে ঢাকা-৮ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে সরকারের দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিদিত্ব নেই। তাই সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণ পাচ্ছে না। এ আসনে আগামীতে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সাধারণ জনগণ উন্নয়নের সুফল পাবে।

মোল্লা মো. আবু কাওসার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন তিনি।

এ আসনের আরেক মনোনয়ন-প্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ১/১১ সরকারের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলের প্রতি তার অবদানের জন্য আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। নিয়মিত তিনি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাছাড়াও ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসায় তার সাথে নেতাকর্মীদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। মতিঝিল-পল্টন-রমনা এলাকায় বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের একটি বিশাল ভোট রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এলাকার যুব ও ছাত্রসমাজ তথা তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলাদা ভাবমূর্তি আছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে নেতা-কর্মীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার ঢাকাটাইমসকে বলেন আমরা রাজনৈতিক কর্মী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি অনেক দিন। সেখানে হল শাখাসহ ডাকসুর সমাজকল্যাণ সম্পাদকও ছিলাম। আমি এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আছি। আর দলের মনোনয়ন কে কোথায় পাবেন, সেটা দলীয় হাইকমান্ড নির্ধারণ করবেন।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। এখন দলের একটি সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি দলের জন্য কাজ করি। দলীয় সভাপতি আমাকে যেই দায়িত্ব দেন আমি সেই অনুসারে আগামীতেও কাজ করব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আল মুরাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। নেত্রী ও দল যদি মনে করে আগামী নির্বাচনে আমি কোনো আসন থেকে নির্বাচন করি, আসনও দল ঠিক করবে।’

(ঢাকাটাইমস/২অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত