‘আমগো তো কেউ খবর নেয় না’

সাইফুল ইসলাম, নাটোর
 | প্রকাশিত : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৯:০৭

নাটোরের সিংড়ায় ভূমিহীন, নিঃস্ব ও অসহায় মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ‘পল্লী নিবাস’। এখানে ৬০টি পরিবার প্রায় এক মাস ধরে বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরিবারের লোকজন পড়েছে চরম বিপাকে। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের অভিযোগ কেউ তাদের খবর নেয় না।

নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন পল্লী নিবাসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লী নিবাস যেন গলা পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। প্রথমে কথা হয় এখানকার বাসিন্দা ভূমিহীন রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই পল্লী নিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কোনো জায়গা-জমি নেই তারপরও স্বপ্ন দেখেন এখানেই স্বপ্নের সংসার গড়বেন। কিন্তু প্রতি বছরই বন্যায় সে স্বপ্ন ভেঙে তছনছ করে দেয়। এবারও প্রায় এক মাস ধরে বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায় এবং কেউ বা চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পুরাতন ভবনে। কিন্তু বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

কথা হয় পল্লী নিবাসের ওজুফা বেওয়া ও রুহিলা বেগমের সঙ্গে। তারা জানান, কলেজের পুরাতন ভবনে কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিলেও তাদেরকে টিউবয়েল থেকে খাবার পানি নিতে দেয়া হয় না। টয়লেট ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। এমনকি পুরাতন ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়া হয়েছে। এমনকি ভবনের প্রতিটি রুমের দরজার সামনে টিন দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে এবং পেছনে ওয়াল ভেঙে দেয়া হয়েছে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘অসহায় বলে আমগো তো কেউ খবর নেয় না।’

সিংড়া চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু ঢাকাটাইমসকে বলেন, সবসময়ই পল্লী নিবাসের অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করা হয়। এবার তার কলেজ সরকার ঘোষিত কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাই কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই সামনে দিয়ে টিনের বেড়া দেয়া হয়েছে। আর কলেজ যতক্ষণ খোলা থাকে খাবার পানি নিতে বাধা নেই। তবে পুরাতন ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়া ও টয়লেট ব্যবহার করতে না দেয়া সবই কলেজের স্বার্থেই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবনেতা কামরুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, বন্যায় পল্লী নিবাসে যে বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেট ব্যবস্থা নেই বিষয়টি তার জানা ছিল না। দ্রুতই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

এবিষয়ে সিংড়া চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান শেখ ঢাকাটাইমসকে বলেন, প্রতি বছরই বন্যার সময় তাদেরকে কলেজ ছেড়ে দেয়া হয়। এতে কলেজের পরিবেশ নষ্ট হয়। তবে এবছর কলেজ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়া বা বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেট ব্যবহার করতে না দেয়া বিষয়গুলো তার জানা নেই। তিনি বিষয়গুলো দেখবেন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো ঢাকাটাইমসকে বলেন, বর্তমান সরকার সব সময়ই বন্যা দুর্গতদের পাশে আছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিব পরিবারকে ৩০ কেজি চাল বরাদ্দসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

ঢাকাটাইমস/২৯জুলাই/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত