ভবদহ অঞ্চলের সড়কে হাঁটু পানি, জনদুর্ভোগ চরমে

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে এখনও অনেক সড়ক জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে এই সকল সড়কে চলাচল করতে জনগণের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত এ সকল সড়কে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তারপরও এই সড়কে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে।
জানা যায়, অভয়নগর উপজেলা নওয়াপাড়-মশিয়াহাটী রাস্তার সরখোলা নামক স্থানে প্রায় আঁধা কিলোমিটার রাস্তা, ডুমুরতলা থেকে আন্ধা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা, কোটা ভায়া বলারবাদ-বেদভিটা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা, ডুমুরতলা থেকে কোটা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা, আন্ধা থেকে সরখোল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা এবং মণিরামপুর উপজেলার হাটগাছা, সুজাতপুর, ডহর মশিয়াহাটী, মশিয়াহাটীর মধ্যবর্তী রাস্তা ও সুন্দলী এলাকার গ্রামের রাস্তায় এখনো জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে প্রায় তিন মাস সকল প্রকার যাত্রীবাহী ট্রেগার, ইজিবাইক, ভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
শুধু রাস্তায় নয়, এ অঞ্চলে এখনও অসংখ্য বাড়ির উঠান পানিতে ভর্তি। বাঁশের সাকোঁই ঘরে ওঠার একমাত্র ভরসা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে অভয়নগর উপজেলার সরখোলা নামক স্থানের রাস্তায় দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষের যাওয়া আসার এই রাস্তায় এখনও হাটু সমান পানি রয়েছে। মোটরসাইকেল চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পানির মধ্যে পার হচ্ছে। মাঝে মাঝে মোটরসাইকেল এ পানির মধ্যে কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
নওয়াপাড়া ঘাটের অনেক শ্রমিক সাইকেল উচু করে নিয়ে পার হচ্ছে। এসময় কথা হয় মণিরামপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের সনজিত বিশ্বাসের সঙ্গে।
তিনি জানান, ইতোপূর্বে আমি পানির মধ্যদিয়ে সাইকেল ঠেলে নিয়ে পার হতাম। তখন আমার সাইকেলের বল বেয়ারিং নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই এখন সাইকেল উঁচু করে নিয়ে পার হই।
এ রাস্তায় সাধারণ যাত্রীদের নৌকায় পার হতে দেখা যায়। এসময় জলাবদ্ধ রাস্তার দুই পাড়ে অনেক ইজিবাইককে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
কামরুল ইসলাম নামে একজন ইজিবাইক চালক জানান, এই রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক পার হতে গেলে ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে। যেকারণে আমরা পার হচ্ছিনা। নৌকায় পার হওয়া যাত্রীদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছি। দুই একটি মালবাহী ভ্যান পার হতে দেখা যায়। তবে সেগুলোকে ঠেলে পার করে দেওয়ার জন্য কয়েকজনকে সাহায্য করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পানির মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানির মধ্যে এ গর্ত দেখতে না পাওয়ার কারণে অধিকাংশ মাল বোঝাই গাড়ি জলের মধ্যে উল্টে যায়।
পথচারী দুধ ব্যবসায়ী তনু সরকার জানান, আঁধা কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রায় আঁধা ঘণ্টা সময় লাগে তার।
উপজেলার বেদভিটা গ্রামের হাফিজুর রহমান জানান, বেদভিটা থেকে বের হতে নৌকা ছাড়া আর কোন পথ নেই।
মণিরামপুর উপজেলার হাটগাছা গ্রামের তাপস মন্ডল জানান, আমাদের গ্রামের ইটের সলিং এর রাস্তায় ছেঁদলা পড়ে গেছে। যে কারণে এ রাস্তায় প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভবদহ অঞ্চলের সকল রাস্তা উচু করে নির্মাণ করতে হবে। রাস্তার দুই ধারে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে। তাহলে জলাবদ্ধতার হাত থেকে এই সকল রাস্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘নওয়াপাড়া-মশিয়াহাটী রাস্তার জলাবদ্ধ ৪০০ মিটারসহ সরখোলা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা অনুমোদন দুই এক দিনের মধ্যে হয়ে আসবে।
এই দিকে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে একাট্রা পানিবন্দি মানুষ। তাদের একটাই দাবি ভবদহ নয় আমডাঙ্গা খাল থেকে ব্লক অপসারণ করে পানির গতি বৃদ্ধি করলে বেঁচে যাবে পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার। এ অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯নভেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
মন্তব্য করুন












































