ডিবি পরিচয়ে অপকর্ম ঠেকাবে নতুন জ্যাকেট, স্ক্যানেই মিলবে তথ্য

গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে অপকর্ম-অপরাধ প্রতিরোধে বদল আনা হচ্ছে পুলিশের এই বিভাগের সদস্যদের জ্যাকেটে। ইতোমধ্যে প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই জ্যাকেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগির ডিবি সদস্যদের মধ্যে তা দেওয়া হবে।
বদলে যাওয়া এই জ্যাকেট তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে ঋতু-সহনীয় কাপড়। শীত ও গরম উভয় ঋতুতে আরাম উপযোগী এই পোশাকে বিশেষ এক ধরনের রঙের ব্যবহার থাকবে। এই রঙের বিচ্ছুরণ জানান দেবে আসল-নকল পুলিশের পার্থক্য।
ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বা পরিচয়ে যেন কেউ অপকর্ম-অপরাধ করার সুযোগ না পায় তাই জ্যাকেট বদল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।
ঢাকা টাইমসকে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘পোশাক তৈরির কাজ চলছে। তাড়াতাড়িই এটা ডিবি সদস্যদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। ডিবির নতুন জ্যাকেটে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’
কেমন পরিবর্তন ব্যাখা করে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘ডিবি জ্যাকেটের ডিজাইন ও লোগোতেও আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন। এই নতুন পোশাকে বুকের ওপরই থাকবে কিউআর কোড। এটি স্ক্যান করে আসল-নকল শনাক্ত করা যাবে। কিউআর কোড ছাড়াও পোশাকে কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকছে। এটি কারো পক্ষে সহজে জালিয়াতি করা সম্ভব হবে না।’
গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সাধারণত সিভিল পোশাকের ওপর একটি হাতাকাটা জ্যাকেট পরেন। এটির সামনের দিকে বুকের ডান পাশে ইংরেজিতে ‘ডিবি’ লেখা। আর বাম পাশে থাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লোগো। এছাড়া পেছনে ইংরেজিতে ‘ডিবি ডিএমপি’ লেখা থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে সাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে নানা অপরাধের খবর আসে। দেখা যায় আসল ডিবির মতো জ্যাকেট পরিহিত থাকায় অনেকেই সন্দিহান হয়ে পড়েন। অপরাধী চক্র ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, ডাকাতিসহ অপহরণের মতো অপরাধে করছে। এসব অপরাধ ঠেকাতেই জ্যাকেট পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ঢাকা টাইমসকে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘এবার জ্যাকেটের বিশেষত্বের মধ্যে অন্যতম এটাতে কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোড সংলগ্ন করা হচ্ছে। ডিবির প্রত্যেক সদস্যকে আলাদা আলাদা কোডযুক্ত জ্যাকেট দেওয়া হবে। এর ফলে কেউ আসল না নকল ডিবি সন্দেহ করলে মোবাইলফোনে স্ক্যান করে দেখতে পারবেন।’
ডিবির সব কর্মকর্তার তথ্য নিজস্ব সার্ভারে জমা থাকবে। মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কোনো সদস্যের জ্যাকেটের কিউআর কোড স্ক্যান করলে তার পরিচয়ের তথ্য দেখাবে। আর ভুয়া কেউ ডিবির পোশাকের কোড বসালে সেটি স্ক্যানে ধরা পড়বে না। ইনভ্যালিড কিউআর কোড দেখাবে। এতে করে সহজে বোঝা যাবে আসল ডিবি না নকল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই জ্যাকেট সদস্যদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, ‘ডিবির সদস্য অনেক। তাই জ্যাকেট তৈরিতে একটু সময় লাগছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এই নতুন জ্যাকেট সদস্যদের দেওয়া হবে।’
(ঢাকাটাইমস/০৬এপ্রিল/ডিএম)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































