শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ শেষ না করেই পালিয়েছে ঠিকাদার

আশিকুর রহমান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
| আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৯ | প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১০:৪০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আধাসরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের কাজ পাঁচ বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার পর অবশেষে কাজ ফেলে পালিয়েছেন ঠিকাদার।

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কক্ষ সংকটে নির্মাণাধীন ওই ভবনেই বছরের পর বছর তীব্র দুর্ভোগে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দরজা ঠুকেও সুফল পাননি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বড়ইবাড়ী এ কে ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজে সরকারি অনুদানের প্রথম ধাপে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে একটি চারতলা ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়। মীর আকাশ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় তিন বছরে ভবনটি চারতলা পর্যন্ত দৃশ্যমান হলেও এরপর থেকেই শুরু হয় নির্মাণ কাজে গড়িমসি।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজ চালিয়ে পাঁচ বছর পার করে ভবনের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। বাকি ৪০ শতাংশ কাজ ফেলে পালিয়ে যায় ঠিকাদার। চারতলা ভবনের নিচের এক তলার কাজ কিছুটা সম্পন্ন হলেও জানালা দরজাবিহীন ওপরের কক্ষগুলোতে ধুলোবালি ও বিভিন্ন সরঞ্জামে ভর্তি। বৃষ্টি হলে কক্ষগুলোতে জমে থাকছে পানি। নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা। ভবনে টয়লেট থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা হয়নি।

এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার থেকে একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হলেও ভবন সম্পন্ন না হওয়ায় ল্যাবের লাখ লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসগুলোতে ধুলোবালি জমে বন্ধ হয়ে আছে।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া খাতুন, সুমাইয়া আক্তার, সিফাত হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানায়, আমরা খুবই কষ্টে ক্লাস করছি। আমাদের এখানে ফ্যান নেই, বাতি নেই, অন্ধকারে ক্লাস করি। বৃষ্টি হলে মেজেতে পানি জমে থাকে। চারপাশ অপরিচ্ছন্ন। এ কারণে আমরা পড়ালেখায় মনযোগী হতে পারছি না। পাশাপাশি আমাদের কম্পিউটার ল্যাবটি বন্ধ থাকায় আমরা কম্পিউটার শিখতে পারছি না।

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুশীল চন্দ্র সরকার ঢাকাটাইমসকে জানান, কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রথম ধাপে আমাদের এই ভবনটির কাজ শুরু হলেও এখনো এর কাজ শেষ হয়নি। অথচ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভবন পরে শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক আকুতি করেছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

এ ব্যাপারে ওই ভবনের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মানিক মিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কালিয়াকৈরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন জানান, এই ভবনটি অনেক আগের। এখানকার ঠিকাদারকে কাজ বাদ দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। পুনরায় টেন্ডার করে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় দ্রুত কাজ চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। (ঢাকাটাইমস/৭আগস্ট/এআর/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :