রক্তে দ্রুত হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১৩

রক্ত মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি। দেহের জ্বালানি স্বরূপ হলো রক্ত। রক্ত দেহের সকল অংশে অক্সিজেন এবং সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বয়ে নিয়ে যায়। দেহে রক্তের কোনো উপাদান কম থাকলে সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। রক্তে আছে লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা, এবং প্লাটিলেট। লাল রক্ত কোষে আছে বিশেষ কিছু আয়রন কম্পাউন্ড, মেডিকেল টার্মে যাকে বলা হয় হিমোগ্লোবিন।

রক্ত এক প্রকার কোষবহুল, বহু জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। সামান্য লবণাক্ত, আঠালো, ক্ষারধর্মী ও লালবর্ণের ঘন তরল পদার্থ যা হৃৎপিন্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হয়। মানবদেহে শতকরা ৮ ভাগ রক্ত থাকে। অর্থাৎ গড়ে মানবদেহে ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে।

ডাক্তারি পরিভাষায় রক্তাল্পতার সমস্যা রোগকে অ্যানিমিয়া বলে। রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে মূলত এই রোগ হয়। হিমোগ্লোবিন হল লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত এক প্রকার প্রোটিন, যার মধ্যে আয়রন এবং অক্সিজেন থাকে। ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হলেও শরীরে স্বাভাবিকের থেকে আলাদা হলেও শরীরে স্বাভাবিক ভাবে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ হল পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ ডেসিলিটার। মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২.১ থেকে ১৫.১ ডেসিলিটার।

ক্লান্তি বা দুর্বলতা হল রক্তাল্পতার সাধারণ লক্ষণ। অন্যান্য লক্ষণগুলো হল শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বল্পতা, মাথা ঘোরা, মাথ্যব্যথা, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। এ ছাড়াও চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, বুকেব্যথাও রক্তাল্পতার অন্যতম লক্ষণ। এগুলি দেখা দিলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হলো হৃদপিণ্ড থেকে দেহের সব অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন দেহকোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডও সংগ্রহ করে এবং তা পুনরায় ফুসফুসের কাছে পৌঁছে দেয় যাতে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহ থেকে বের হয়ে যেতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে দেহ অক্সিজেনের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্তশুন্যতার মতো রোগও হয়। আর এ থেকে বাঁচার উপায় হলো হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় এমন কিছু খাবার খাওয়া। এখানে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়বে।

মাংস

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ দ্রুত বাড়াতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন। সকল ধরনের লাল মাংস; যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং কলিজা আয়রণের সবচেয়ে ভালো উৎসগুলোর একটি। আয়রণ হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য জরুরি। মুরগির মাংস লাল মাংস না হলেও তাও দেহকে বিশাল পরিমাণে আয়রণ সরবরাহ করতে পারে।

ডিম

ডিম হলো আরেকটি জনপ্রিয় খাদ্য যাতে আছে উচ্চমাত্রার আয়রণ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডিমের হলুদ কুসুমে আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পুষ্টি এবং ভিটামিন। আর এ কারণেই দুর্বল লোকদেরকে প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খেতে বলা হয়।

ভিটামিন সি

শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় ভিটামিন সি না থাকলে আয়রন শরীর ঠিক করে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে এমন ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত, যাতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। আম, লেবু, আপেল, পেয়ারার মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি অন্য খাবার থেকে আয়রন পেতে শরীরকে সাহায্য করে।

শস্যজাতীয় খাদ্য

চাল, গম, বার্লি এবং ওটস রক্তশুন্যতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য চমৎকার আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার। এসব খাবার প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটসও সরবরাহ করে। লাল চাল বিশেষ করে সব বয়সীদের জন্যই আয়রণের একটি সমৃদ্ধ উৎস বলে গণ্য হয়।

সবজি

শাক-সব্জি খেলে আয়রনের ঘাটতি অনেক কমে। বিটের মতো আনাজ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। টম্যাটো, কুমড়ো, ব্রকোলি বা পালং শাকে প্রচুর আয়রন থেকে। এগুলি খেলেও রক্তাল্পতার সমস্যা কমতে পারে।

সামুদ্রিক খাদ্য

সামুদ্রিক খাদ্যে আয়রণ এবং অন্যান্য খনিজ পুষ্টি উপাদান আছে প্রচুর পরিমাণে। সুতরাং অ্যানেমিয়া বা রক্তশুন্যতার রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অয়েস্টার, ক্লামস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর সামুদ্রিক খাদ্য রাখতে হবে।

মাছ

কিছু মাছে প্রচুর আয়রন থাকে। যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন, তারা বাছাই করা কিছু মাছ খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রুই, কাতলা, ইলিশ, পমফ্রেট খাওয়া যেতেই পারে।

ড্রাই ফ্রুটস

হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে শুকনো ফল খেতে পারেন। কিশমিশ, কাজু, খেজুরে প্রচুর আয়রন রয়েছে। অ্যাপ্রিকটেও প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। খেজুর শরীরে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে।

বীট

শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়াতে বিটের জুড়ি মেলা ভার। যাদের সুগার রয়েছে তাঁরা বিট এড়িয়ে চলতে পারলেই ভাল, যেহেতু বিটের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ শর্করা। বিটের থেকেও বেশি আয়রন রয়েছে বিটের পাতায়। তাই এই পাতা খেতে পারলেই কিন্তু সবচেয়ে বেশি লাভ।

পেস্তা

রোজ সকালে তিন থেকে চারটে পেস্তা খেতে পারলে খুবই ভাল। পেস্তা খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এই ফলের মধ্যে রয়েছে ৩০ রকম ভিটামিন। আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রনও।

ডুমুর

ডুমুরের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ১, বি ২, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্লোরিন। রোজ রাতে দুটো ডুমুর জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে তা ছেঁকে খান। এতেও বাড়বে হিমোগ্লোবিন। এছাড়াও বানিয়ে নিতে পারেন ডুমুরের তরকারিও।

বেদানা

বেদানার মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন সি। এছাড়াও থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। একগ্লাস ইষদুষ্ণ দুধের সঙ্গে বেদানা মিশিয়ে খান। এতেও শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়বে। সবথেকে ভাল রাতে ঘপমোতে যাওয়ার আগে দুধের সঙ্গে খেজুর ফেলে খান। এতেও ভাল কাজ হবে। দৃষ্টিশক্তিও ভাল হবে।

কিশমিশ

রক্ত গঠনের জন্য ভূমিকা রয়েছে কিশমিশের। কিশমিশের মধ্যে থাকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। বিশেষত কালো কিশমিশের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। তাই কিশমিশ খান নিয়ম করে, এতে বেশি ভাল কাজ হবে।

তিল

তিলে ভরপুর মাত্রায় আয়রন, কপার, ফোলেট, ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

ডার্ক চকোলেট

হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেট দারুণ দাওয়াই। মিল্ক চকোলেট বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। কিন্তু ডার্ক চকোলেটে সেই সমস্যা নেই। বরং এটি খেলে আয়রনের ঘাটতি অনেকটাই কমবে।

(ঢাকাটাইমস/২৯ নভেম্বর/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :