‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’, মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে হিরো আলম

বগুড়া-৪ ও ৬ আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হলেও নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। কবি কালীপ্রসন্ন ঘোষের ‘পারিব না’ কবিতার উদ্ধৃতি টেনে তিনি বলেন, ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার।’
তিনি আরও বলেন, আমার এমন কোনো বয়স হয়নি যে, আমি নির্বাচন করতে পারব না। জীবনযুদ্ধে (নির্বাচনে) যখন লড়াই করতে নেমেছি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
হিরো আলম বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের নির্বাচন করার অধিকার আছে। এবারও নির্বাচন করার টার্গেট আছে আমার। যেহেতু জীবনযুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছি, দেখি শেষ পর্যন্ত কতটা করতে পারি। আমি পরিপূর্ণভাবে সব জমা দিয়েছি। এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে বুঝতে পারব, তারা সুষ্ঠু বিচার করলেন না অবিচার করলেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন হিরো আলম।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মারামারি করে তো আর প্রার্থিতা পাওয়া যাবে না। আমরা চেষ্টা করব, না পারলে কিছু করার নেই। কমিশনের প্রতি অনুরোধ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দেখবেন আমার যেন সবকিছু ঠিক থাকলে প্রার্থিতা যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ইসি থেকে বাতিল হলে হাইকোর্টে যাব।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে যখন ভোট করি তখনও একই কারণে বাতিল করা হয়েছিল। এবার সে ভুল জানা মতে করিনি। একটা ভুল তারা ধরেছেন যে, একজন ভোটারের নাকি নাম্বরা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ওই নামে আমি কারো নাম্বারই জমা দিইনি, উনারা যে ভুলটা ধরেছে আরেকটা ভোটার লিস্টে নাম পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু নাম্বার পাওয়া যাচ্ছে না। এই দুইটা বিষয়টি আমি কমিশনে জমা দিয়েছি। আগেরবারও বগুড়া-৪ আসনে প্রার্থী হলে হাইকোর্ট থেকে পরে প্রার্থিতা পেয়েছিলাম। সে বারও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে এতকিছু করার পরও বাতিল করে দিল। তারপরও আমি হাল ছাড়লাম না। শেষ পর্যন্ত আইনের প্রতি বিশ্বাস ছিল। পরে হাইকোর্ট দিলেন। সেই নির্বাচনে মারামারির কারণে দুপুরে ভোট বর্জন করি।
আশরাফুল আলম বলেন, ওখানে বগুড়া সদর ও কাহালুর দুইটা আসনেই শুধু আমার না, মোট ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বেশি ভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। সবাই এ ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনে ভুল। আমার নামে কোনো মামলা নেই বলেন, ঋণখেলাপি নেই বলেন, তারপর আইনের অন্য কোনো দোষ কিন্তু ধরতে পারেনি। শুধু বের করছেন ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনে ভুল।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তো বাইরে থাকতে পারতাম না। বাইরে কেন আমি? এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, গুজব। আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য কিছু লোক এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ষড়যন্ত্র যদি নাই হবে তাহলে একটা আসনে তো পেতাম আমি। দুইটা আসন থেকে কেন বাতিল করা হবে। যেকোনো কারণ থাকতে পারে। কারা ষড়যন্ত্র করছেন এই মুহূর্তে বলব না। ভোটের মাঠে যাবো তারপর আপনারাই বলতে পারবেন। কেউ যদি বাধা দেয়, এখন সব মানুষের হাতের মুঠোয়। সবাই জানতে পারবেন। আমরাও পরবর্তীতে সব তুলে ধরবো।
কোন জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে দুটো আসনে নমিনেশন পেপার তুলছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন আমি ভাইরাল হইনি তার আগে দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করি। তারপর এলাকার লোকজনের দাবি, যেহেতু পছন্দের প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না, যে দুইবার নির্বাচন করেছিলাম তাই এবারও বগুড়া সদর থেকে নির্বাচন করব। আগে যেহেতু কাহালুর থেকে করেছিলাম তাই আবার সেখান থেকে নমিনেশন নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, আমি জয়লাভ করব। ১৮ সালের নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হয়নি। আমার এলাকায় আমি খুঁজে পায়নি। অন্য কোথাও হয়েছে কিনা আমি জানি না, আপনারা বলতে পারবেন।
কোটি টাকার সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু বিষয় থাকে যে তিলকে তাল বানায়। আমার হয়তো জমা দেওয়ার কথা ২০ লাখ, ওরা হয়তো ৫০ লাখ করে দিয়েছে। লিখতে তো আর সমস্যা হয় না, বলতেও সমস্যা হয় না। দেখতে হবে কোটি কোটি টাকা আছে কিনা। এটা তো আমি চাইলেও লুকিয়ে রাখতে পারব না। আমার কোটি কোটি টাকা, এত সম্পদ যদি থেকে থাকে তাহলে দুদক অবশ্যই তা খুঁজে দেখবে, আমার এতকিছু আছে কিনা।
সম্পদের পরিমাণ বলতে আমার কিছু ধানি জমি আছে। নতুন একটা বাসা করছি। আর একটা গাড়ি আছে। সম্পদের পরিমাণ কত হবে। গ্রামগঞ্জে জমির দাম আর কত হবে। ৫ লাখ টাকার কথা বলেছি উকিল শূন্য একটা বেশি বসিয়ে দিয়েছেন। উকিলের ভুলে সম্পদের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এটা আপনারা নিউজ করেছেন। এখন খুঁজে তো দেখতে হবে এত টাকা আমার আছে কিনা।
সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই জমা দিতে হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে তা যাচাই করেন। হিরো আলমের জমা দেওয়া সমর্থনসূচক সইয়ের মধ্যে দুইজনের বিষয়ে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
(ঢাকাটাইমস/১০জানুয়ারি/এসএন/ইএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































