নাঈম হাসানকে হেনস্তার মামলায় গ্রেপ্তার নেই, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সোর্সকে

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে মামলার এক আসামি, পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেল হোসেন সরকারকে পৃথক একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত শনিবার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী এবং সোহেল হোসেন সরকারকে আসামি করা হয়।
আদালতের জিআরও শাখা ও হাজতখানার তথ্য অনুযায়ী, সোহেল হোসেন সরকারকে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত শনিবার ওই মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী সাব্বির আলম। তিনি বলেন, মামলায় নাম থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান ও উপপুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়েন নাঈম হাসান। তার অভিযোগ, পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে সিএমপি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































