ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচার চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪:৫৫
অ- অ+

অবৈধ পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মিকাইল ইসলাম।

সিআইডি জানিয়েছে, তাদের মানব পাচার প্রতিরোধ (টিএইচবি) ইউনিট গত সোমবার বিকালে সিলেট বিমানবন্দর এলাকা থেকে মিকাইল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহতদের একজন মাসুম (ছদ্মনাম) এবং মিকাইল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় ও পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাসুম। এ সুযোগে মানব পাচারকারী চক্রটি তাকে গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়।

তদন্তে জানা গেছে, গ্রিসে পাঠানোর কথা বলে মাসুমের পরিবারের কাছে মোট ১৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গ্রিসে পৌঁছানোর পর আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্ত ছিল।

পরিবারের সদস্যরা দালাল চক্রের কথায় বিশ্বাস করে অর্থ পরিশোধে সম্মত হন। ঢাকায় ১৭ দিন অবস্থানের পর মাসুমকে অন্যদের সঙ্গে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে তিনি পরিবারের সদস্যদের টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেন। পরে তার বাবা একটি ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ টাকা জমা দেন এবং মিকাইল ইসলামের কাছে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাসুমকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। কয়েক মাস সেখানে রাখার পর গত ২১ মার্চ ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ৪৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

যাত্রাপথে নৌযানটি কয়েক দিন ভূমধ্যসাগরে আটকা পড়ে। খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনাহার, পানিশূন্যতা ও চরম দুর্ভোগে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

সিআইডি জানায়, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রটি ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠানোর নামে তারা মানব পাচার, জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার ব্যবস্থা করত।

সিআইডি বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিকাইল ইসলাম মানব পাচার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শ্যামলের পায়ে টহল পুলিশের গুলি: এক মাসের মধ্যে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ
বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৩১ রানে থামল বাংলাদেশ
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির প্রতিবেদন দাখিল ২৮ জুন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা