চট্টগ্রামের ইপিজেডে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামি আবির আলীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২৬, ১৩:০৬| আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১৩:৪৮
অ- অ+

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১ লাখ অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।

২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের’ জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়।

সে বছরের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন সুইচ গেইটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)।

এর আগে গত ২১ মে যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেছিলেন তিনি। এ মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আদালতসূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে চট্টগ্রামের ইপিজেডের দক্ষিণ হালিশহর নয়ারহাট এলাকার তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয় আয়াত। এ ঘটনায় ২৫ নভেম্বর আয়াতদেরই ভাড়াটিয়া আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবআিই)। তাকে গ্রেপ্তারের পর শিশু আয়াত খুনের মূল রহস্য উদ্ঘাটন হয়।

আদালতসূত্র জানায়, এ ঘটনায় আয়াতের বাবার দায়ের করা মামলায় ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে। এতে আবিরের পাশাপাশি ১৭ বছরের অপর এক কিশোরকেও অভিযুক্ত করা হয়। এ কিশোরের বিচার আলাদাভাবে শিশু আদালতে চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে– আয়াতকে ৬ টুকরো করে হত্যার বিষয়টি আবির তাকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে তা প্রকাশ করে নি। পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থল মাঠে গিয়ে শিশুদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, আয়াতকে কোলে নিয়ে ছিল আবির। এ নিয়ে আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানিয়েছিল, সে কোলে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আয়াতকে খুনের পর সে ২ টি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যে একটি ব্যাগ তার বাসায় পাওয়া গেলেও অপর ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। এর ভিত্তিতেই ২৫ নভেম্বর আয়াতকে হেফাজতে নেয়া হয়। একপর্যায়ে আবির সবকিছু স্বীকার করে। আদালতে পাঠানো হলে সেখানেও ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় সে জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
৫ আগস্টের পর পালিয়ে কাতার, দেশে ফিরেই আবার প্রতারণা; সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পেজ এ্যাডমিন গ্রেপ্তার
ক্ষমতার শিখর থেকে কারাগারের পথে: বেনজীর আহমেদের কুকীর্তির খতিয়ান
প্রতারণার অভিযোগে সাবেক দুই এমপি-মন্ত্রীদের পেজের এডমিন গ্রেপ্তার
দুই ওপেনার ফেরার পর ইনিংস গড়ার চেষ্টায় বাংলাদেশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা