হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আবুল বারকাত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত রবিবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন এবং কারাগারে পাঠান।
আজ জামিন শুনানিতে আবুল বারকাতের পক্ষে আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম জামিন আবেদন করেন। তিনি যেকোনো শর্তে তার মক্কেলের জামিন প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকায় আবুল বারকাতের কারামুক্তিতে আপাতত কোনো বাধা নেই।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। তবে ওই মামলায় জামিন পেলেও তিনি কারামুক্ত হননি। একই দিন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থক নেতাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন আবুল বারকাত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
ঘটনার পর নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































