দেশে সক্রিয় ২৬৮ অনলাইন জুয়ার সাইট, বন্ধে বিটিআরসিকে সিআইডির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০২৬, ১৪:৫৩
অ- অ+

দেশে সক্রিয় ২৬৮টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত ২ হাজার ২২১টি ব্যাংক হিসাব নম্বর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। বাকি সাইটগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।

সানা শামীনুর রহমান জানান, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সবশেষ রবিবার ও সোমবার নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) এবং আবু জোবায়ের সানি (৩৬)। এর মধ্যে রায়হান ও পাভেলকে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকা থেকে এবং সানিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিপিসি দেখতে পায়, দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে জানা যায়, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। অভিযুক্তরা বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিতেন। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করা হতো, যা জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হতো।

সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করতেন। কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এজেন্ট সিম ও হিসাব সরবরাহ করতেন, যা অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত হতো।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬ জুন/এলএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম
টেকনাফে সাড়ে ৬ কোটি টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে ৬ পুরস্কার অর্জন বাংলাদেশের
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা