আমিরাতে বেনজীর জামিন চাইলে কী হতে পারে? কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে নেই প্রত্যর্পণ চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪:১৯
অ- অ+

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তার ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউএইর আদালতের সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর।

দুবাইভিত্তিক গণমাধ্যম বিশ্লেষক সাইফুর রহমান জানান, সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে ইউএইতে আদালত ও সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে বেনজীর আহমেদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিনের আবেদন করতে পারেন। আদালত চাইলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে তাকে দেশটির ভেতরে অবস্থানের অনুমতি দিতে পারে।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার ওপরই অনেকাংশে বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

ইউএইতে কর্মরত বাংলাদেশি আইনজীবী ওলেরা আফরিন গণমাধ্যমে বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও আদালত নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত প্রথমে যাচাই করবে, যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে, সেগুলো ইউএইর আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না।

এ ছাড়া অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি প্রকৃত অপরাধসংক্রান্ত, সেটিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে বলে জানান তিনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে ইউএই আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার নথি, অভিযোগসংক্রান্ত প্রমাণ এবং আদালতের আদেশসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে। এসব নথি যাচাই–বাছাই শেষে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা ছয়টি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদ। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার চলছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগসহ আরও কয়েকটি মামলার তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইতিমধ্যে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোলের কাছেও প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদ যদি ইউএইতে বৈধভাবে বসবাসকারী হন বা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তবে বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কেবল বিনিয়োগকারী বা আবাসিক মর্যাদা থাকলেই আইনি দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের উদ্যোগই একযোগে চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৩১ রানে থামল বাংলাদেশ
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির প্রতিবেদন দাখিল ২৮ জুন
সিটিটিসির অভিযান: কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা