সন্ত্রাসের ‘অভয়ারণ্য’ এখন মোহাম্মদপুর, আতঙ্কে বাসিন্দারা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২১
অ- অ+

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই, সশস্ত্র হামলা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। চাপাতি, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধীরা হামলা চালাচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।

পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, গোয়েন্দা পুলিশ এবং যৌথ বাহিনীর একাধিক অভিযান সত্ত্বেও এলাকাটিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের পর অভিযানে গেলে পুলিশের ওপরও হামলা হয় বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আদাবর থানার ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হলেও হামলাকারীদের একটি অংশ পালিয়ে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) জানায়, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। বসিলা এলাকায় ইতোমধ্যে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাত নামলেই সশস্ত্র গ্যাংগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই করছে। কিছু চালকের বিরুদ্ধে রাতের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।

মোহাম্মদপুর থানার বসিলা বড় মসজিদের খতিবের মতে, অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে রাতে এসব যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা আরও জানান, বেড়িবাঁধ, শেখেরটেক, তাজমহল রোড, মনসুরাবাদ হাউজিং এবং আদাবর এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা চাপাতি, সামুরাই তলোয়ার ও ছুরি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ সদস্যের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ প্রতিদিন গড়ে কয়েকজন ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জানিয়েছেন, এলাকাটির জনঘনত্ব, ভাসমান জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত বসতি অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বেকারত্ব ও কম খরচে বসবাসের সুযোগও অপরাধ প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরু গলি, ঘনবসতি এবং ভৌগোলিক জটিলতার কারণে অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে, ফলে তাদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর অনেক অপরাধী দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পুলিশ অভিযান চালালেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাদের।

একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু অপরাধী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে নিরাপদে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে থানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর কিছু এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়াও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, জনবল বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল এবং সমন্বিত সাড়াশি অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

বর্তমানে বসিলা এলাকায় নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হলেও অপরাধ প্রবণতা পুরোপুরি কমেনি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা, স্থায়ী নজরদারি এবং সংঘবদ্ধ গ্যাং দমনে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন, ভুয়া প্রবাসী পরিচয়ে প্রতারণা; সৈয়দপুর থেকে দুইজন গ্রেপ্তার
রিজার্ভ চুরির মামলায় জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন
উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে দাপুটে জয় কলম্বিয়ার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা