একজন গ্রেপ্তার
তিন ভাইয়ের মানব পাচার সাম্রাজ্য, ৩০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য সিআইডির হাতে

লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় এবং মানব পাচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে রাব্বানী ফরাজী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, কোতোয়ালি (ডিএমপি) থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বানী ফরাজীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাব্বানী ফরাজীর বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায়। তিনি অলিয়ার ফরাজীর ছেলে।
তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, রাব্বানী ফরাজী ও তার ছোট ভাই রুবেল ফরাজী আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বড় ভাই আউয়াল ফরাজী চক্রটির মূলহোতা। তারা ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে লোকজনকে লিবিয়ায় নিয়ে যেত। সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থ ব্যবহার করে রাব্বানী ও রুবেল ফরাজী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন করেছেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা খুলনা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আসামিদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানব পাচার ও অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































