২৩ মাস পর যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু

দীর্ঘ ২৩ মাস ৯ দিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে গেছে দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া সার কারখানা যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল)।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে উৎপাদন শুরু হওয়ায় জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেপিআই-১ মানসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে আসছিল। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২–৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে নেমে আসে।
কারখানা সূত্র জানায়, ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যমুনায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
যমুনা সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম কষ্টে ছিলেন। গ্যাস সংযোগ ফিরে আসার পর কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় সবার মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এখন গ্যাসের চাপ বাড়ানো হয়েছে। কিছু যন্ত্রাংশের মেরামত শেষে পূর্ণমাত্রায় অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদনে যেতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধায় সব বাধাবিপত্তি সামলে কারখানায় নিয়মিত ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। এখনো গ্যাসের চাপ কম। পূর্ণমাত্রায় গ্যাস প্রেশার পেলে কারখানার নিয়মিত উৎপাদন বাড়তে পারে।’
(ঢাকাটাইমস/২৪ডিসেম্বর/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































