হারানো গৌরব ফেরাতে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা চাই:  কাদের গনি চৌধুরী

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৭| আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৮
অ- অ+

অপসাংবাদিকতা, তথ্য-সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা দেশের সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে ভুয়া সাংবাদিকে ভরে গেছে। হারানো গৌরব ফেরাতে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা হওয়া ্উচিত্।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সভা উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন বিএফইউজে মহাসচিব।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় অন্যদের মধ্যে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, দফতর সম্পাদক আবু বকর, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মামুন ফরাজী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংবাদ মাধ্যমকে গণতন্ত্রের চোখ হিসেবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এ চোখ দিয়েই সরকার সমাজের অনেক ভেতর পর্যন্ত দেখতে পায়। গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব দিতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হয় না।

শীর্ষ সাংবাদিক নেতা বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের আরো সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। তাই বাংলাদেশের সংবিধান ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার অবাধ সুযোগ দিয়েছে এই পেশাকে। সাংবাদিকরা ক্ষমতার চোখে চোখ রাখেন। কিন্তু এর কোনোটিই এখন হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সত্যের আরাধনারও তাগিদ দেন বিএফইউজে মহাসচিব। বলেন, সততা, নির্ভুলতা ও পক্ষপাতহীনতা- এই তিন হলো সাংবাদিকতার মূলভিত্তি। তাই সংবাদ হতে হবে শতভাগ নির্ভুল ও শুদ্ধ।

বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার গণমুখী চরিত্রটা হারিয়ে ফেলেছে। এই কথা বলে কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, বিশেষ করে পতিত সরকারের সময় বাংলাদেশের মিডিয়ায় সাংবাদিকতা বলতে কিছুই ছিল না। সে সময় আমাদের সাংবাদিকদের অনেকে দলদাসে পরিণত হয়েছিলেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। জনগণ দাস সাংবাদিকতাকে ঘৃণা করে বলে সাংবাদিকদের সতর্ক করেন তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারের সময় সাংবাদিকতার ভয়াবহ অধঃপতনের কথা স্মরণ করেন বিএ্ফইউজে মহাসচিব। বলেন, এমন অধঃপতন হয়েছিল যে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ গণশত্রুতে পরিণত হয়। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে তারা নিজ থেকে পালাতে শুরু করেন। কেউ কেউ পালাতে গিয়ে গ্রেফতার হন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে এই শীর্ষ নেতা বলেন, মনে রাখবেন সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করলে পালাতে হয় না। দুঃসময়ে জনগণ তাদের পাশে থাকে।

বর্তমান সংবাদ মাধ্যমের করুণ চিত্র তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অপসাংবাদিকতা, তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছে। একই প্রেস থেকে পত্রিকার নাম আর প্রিন্টার্স লাইন ছাড়া একই রকম পত্রিকা বের হয় শত শত। এটা কি সাংবাদিকতা? সকাল হলে তথাকথিত সম্পাদকরা ওই সব পেপার বগল দাবা করে সচিবালয়ে ঢোকেন। তাদরে দাপটে আসল সাংবাদিকরা কোণঠাসা।

প্রকৃত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির আহবান জানিয়ে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, কে সাংবাদিক আর কে সাংঘাতিক এটা ঠিক না হওয়ায় জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকদের দ্বারা ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিসাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গণমাধ্যমের মর্যাদা ফিরে পেতে চাইলে এ সব তথ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের মর‌্যাদার বিষয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমানকে উদ্ধৃত করেন। বলেন, জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের বলতেন সোশ্যাল টিচার। আমরা যেন এর অমর্যাদা না করি। আমরা যেন শুধু সোশ্যাল টিচারই নই সোশ্যাল ডক্টর হয়ে উঠি। তাহলে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারব।

বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্র তথা প্রজাতন্ত্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সর্বোপরি সুশাসন যেমন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে, তেমনি সংবাদমাধ্যম সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে রাষ্ট্রকে ঠিক পথে চলতে সহযোগিতা করে। আর এ জন্য সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নালিতাবাড়ীতে গলায় বাদাম আটকে ৩ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
আগামীকাল থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর
পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল বিদেশি মদ, বিয়ার ও সিগারেট জব্দ
ই-অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা মাসুকুর রহমান গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা