এক বিন্দু স্ফটিক হয়ে বড় আকারে জন্মায় বৃষ্টির শিলা, খাওয়া কী নিরাপদ

বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ টুপটাপ শিলাবৃষ্টি। প্রকৃতির এই পরিচিত দৃশ্য কখনও কখনও ভয়াবহ রূপও নিতে পারে। ছোট আকারের শিলাও গাড়ির কাচ ভেঙে দিতে সক্ষম, আর বড় আকারের শিলা বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো শক্তি রাখে। বিজ্ঞানীরা এখন সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের শিলাপাত হতে পারে, যা বাড়িয়ে দিতে পারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে বরফের টুকরো বা গোলাকার বরফখণ্ড পড়াকে বলা হয় শিলাবৃষ্টি। এটি সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়। এই মেঘে থাকা জলের কণা অত্যন্ত ঠান্ডা হয়ে বরফে পরিণত হয় এবং একসময় ভারী হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা জানান, শিলার জন্ম হয় ক্ষুদ্র একটি বরফ স্ফটিক থেকে। ঝড়ের কারণে সেই স্ফটিক মেঘের বিভিন্ন স্তরে ওঠানামা করতে থাকে। এ সময় হিমাঙ্কের নিচে থাকা ঠান্ডা পানির কণা স্ফটিকের গায়ে জমে বরফে রূপ নেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে শিলার আকার বাড়তে থাকে।
বরফ জমার এই প্রক্রিয়া সবসময় সমান গতিতে হয় না। স্ফটিকের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্তরে বরফ জমতে থাকে। ফলে একটি শিলাখণ্ড ভেতর থেকে কেটে দেখলে গাছের গুঁড়ির মতো স্তরবিন্যাস দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিলার আকার নির্ভর করে সেটি মেঘের মধ্যে কতক্ষণ ভাসতে পারছে এবং কতটা ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে আসছে তার ওপর। দীর্ঘস্থায়ী ও ঘূর্ণায়মান ঝড়, যাকে সুপারসেল বলা হয়, সেগুলো সবচেয়ে বড় আকারের শিলা তৈরিতে সহায়ক। এই ধরনের ঝড়ে প্রচুর ঠান্ডা জলের কণা থাকে এবং শিলাখণ্ড দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
সাধারণত বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে শিলাবৃষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ সময় উষ্ণ আবহাওয়া, ভূপৃষ্ঠের কাছে আর্দ্র বায়ু, ট্রপোস্ফিয়ারের অস্থিতিশীল বায়ুস্তর এবং শক্তিশালী ঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন ব্রায়ান ট্যাঙ্গ। তিনি জানান, গত চার দশকের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিলার আকার ক্রমেই বড় হচ্ছে। পূর্ব ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৭৯ সাল থেকে নিয়মিত গলফ বলের আকারের শিলাপাতের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
তার মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বায়ুমণ্ডল আরও উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে উঠছে। এর ফলে শক্তিশালী ঝড়ের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেই ঝড়ের মধ্যে আরও বেশি ঠান্ডা জলের কণা জমে বড় আকারের শিলা তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে ট্রপোস্ফিয়ারের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়লে শিলার আকারও বৃদ্ধি পাবে। এতে যানবাহন, ঘরবাড়ি ও মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গবেষকরা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া এসব শিলা খাওয়া মোটেই নিরাপদ না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া শিলাতে নানা ধরনের দূষিত উপাদান থাকে; যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিলাতে নাইট্রেটসহ বেশকিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই উপদানগুলো পানিতেও থাকে, তবে শিলাতে এসবের উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি। গবেষকদের মতে, যখন শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, তখন সেটাকে আইস নিউক্লিয়েশন বলা হয়। এই আইস নিউক্লিয়েশনে বাতাসের বিভিন্ন পলিউশন থাকে। এই পলিউশনের কিছু কিছু সাফসটেন্স আইস নিউক্লিয়া হিসেব কাজ করে। অর্থাৎ যে আইস গঠিত হয়, তার সিড হিসেবে কাজ করে। যখন পলিউশনটা সিড হিসেবে কাজ করে তখন আইসটা চারিদিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত ওয়াটার কনডেন্সড তৈরি করে। এই ওয়াটার কনডেন্সড শিলায় রুপান্তরিত হয়। শিলাটা যখন বাতাসে হালকা থাকে তখন ভেসে থাকে, যখন এটি ভারি হয় তখন ভুপৃষ্ঠে নেমে আসে। মানুষ যদি এটা খায় তাহলে এর মধ্যে থাকা পলিউশন শরীরে প্রবেশ করে। এজন্য শিলা খাওয়া উচিত না। যেকোনো পানীয় পানযোগ্য হওয়ার জন্য ৪০টি প্যারামিটার রয়েছে। শিলা এই ৪০টি প্যারামিটার ফুলফিল করে না। কারণ, এটার জন্মই হলো পলিউশন সিড থেকে। কোনোভাবেই শিলা খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শিশুরা যেন শিলা না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
(ঢাকাটাইমস/৭ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































