রেজাউল করিম মল্লিককে নিয়ে সমালোচনা ‘কাজ দিয়েই বিচার করা উচিত’: এমপি মোশাররফ

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমপি মোশাররফ বলেন, রেজাউল করিম মল্লিক কোনো অন্যায় বা খারাপ কথা বলেননি। তাঁর ভাষ্য, একজন মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত কষ্ট থাকতেই পারে। সেই জায়গা থেকেই হয়তো ডিআইজি কথাগুলো বলেছেন।
সোমবার পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, বিগত সরকারের সময় তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে “এক চুলও বিচ্যুত হননি”। তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ প্রসঙ্গে টকশোতে উপস্থাপক প্রশ্ন তোলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এমন বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করতে পারে কি না। জবাবে এমপি মোশাররফ বলেন, রেজাউল করিম মল্লিক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
সংসদ সদস্য বলেন, ‘তিনি তো একটা কম্পিটিটিভ এক্সাম দিয়ে এসেছেন। বিসিএসের মতো প্রেস্টিজিয়াস চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তাহলে ১৫ বছর কেন তিনি বঞ্চনার শিকার হবেন?’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘বঞ্চিত কর্মকর্তা’ হিসেবে বিবেচনা করেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রেজাউল করিম মল্লিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা দলীয় সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ সামনে আসেনি।
এমপি মোশাররফ বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা ঢাকায় থেকে সব খোঁজ রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের বা দলীয় সংশ্রবের কোনো অভিযোগ কি পেয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, কোনো কর্মকর্তার মূল্যায়ন তাঁর বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং কাজের ধরন ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। তাঁর মতে, রেজাউল করিম মল্লিকের কর্মকাণ্ড বিচার করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।
এর আগে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের বক্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, ‘জাতীয়তাবাদী মানে তো বাংলাদেশকে ধারণ করা। আমি বাংলাদেশি, আপনি বাংলাদেশি—এটাই তো জাতীয়তাবাদ। দেশের প্রতিটি নাগরিকই জাতীয়তাবাদী।’
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ তো আমাদের পরিচয়ের অংশ। পাসপোর্টে আমাদের জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা থাকে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই বিশ্বাসই জাতীয়তাবাদ। এটাকে দলীয় দৃষ্টিতে দেখলে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হবে।’
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ডিবিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব, আইজিপি, সেনা-নৌ বাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী সহ ৩০০-এর অধিক বড় বড় পদধারীদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন রেজাউল করিম মল্লিক।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে এ সম্পৃক্ততা তার কর্মজীবনে নানা সময়ে প্রভাব ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়ে তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়িত হন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














































