টঙ্গী উড়ালসড়কে ময়লার স্তূপ এখন নয়নাভিরাম ফুলের বাগান, জ্বলে উঠছে সড়কবাতি

মোঃ রাজীব হোসেন, টঙ্গী-পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭| আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯
অ- অ+

আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী উড়ালসড়কের স্টেশনগুলোতে ছিল ময়লার স্তূপ, ছিনতাইকারী, ভবঘুরে ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিচরণ। আজ সেই স্থানই রূপ নিয়েছে রঙিন ফুলের সুসজ্জিত বাগানে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশে অবস্থিত বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের স্টেশনগুলো এখন যেন নগর সৌন্দর্যের নতুন প্রতীক। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চল, গাজীপুর ও ময়মনসিংহগামী মানুষের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কের উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে টঙ্গী কলেজগেট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার উড়াল সড়কের বিভিন্ন স্টেশন সম্প্রতি নতুন সাজে সেজে উঠেছে। সরকার বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা স্টেশনগুলোতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শুরু হয় সৌন্দর্যবর্ধনের কর্মসূচি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেনের নির্দেশনায় টঙ্গী বাজার, টঙ্গী স্টেশন রোড, মিলগেট, চেরাগ আলী এবং টঙ্গী শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন বিআরটি স্টেশনগুলো থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এরপর খোলা জায়গায় মাটি ভরাট করে রোপণ করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। এখন সেই গাছে ফুটতে শুরু করেছে নানা রঙের ফুল, যা পথচারী ও যাত্রীদের মন কেড়ে নিচ্ছে।এছাড়াও স্টেশন গুলোর দেওয়ালে আকা হয়েছে চমৎকার গ্রাফিতি,সংযোগ দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন এবং লাগানো হয়েছে সড়ক বাতি।

স্থানীয়রা জানান, স্টেশনগুলো একসময় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এখন পরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে মনোরম ফুলের বাগান। রাতের অন্ধকার দূর করতে বসানো হয়েছে নান্দনিক আলোকসজ্জা। সন্ধ্যা নামতেই রঙিন আলোর ঝলকানিতে স্টেশনগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। এই পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নিয়মিত যাত্রীরাও।

এই রোডে যাতায়াতকারী ইকবাল হাসান বলেন, "যে স্টেশনগুলোর দিকে আগে তাকানোই যেত না, আজ সেখানে ফুটেছে রঙিন ফুল। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কারণে পুরো এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। রাতেও এখন আলো থাকে, নিরাপত্তাও বেড়েছে।"

স্থানীয় দোকানী রুহুল আমিন জানান, শুধু যাত্রী নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন অবসরে স্টেশনগুলো ঘুরে দেখতে আসছেন। অনেকেই ফুলের বাগান ও আলোকসজ্জার সামনে ছবি তুলছেন। ফলে এই স্টেশনগুলো ধীরে ধীরে নগরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রেও পরিণত হচ্ছে।

চয়ের দোকানী আব্দুল করিম বলেন, ছিনতাইকারীর ভয়ে ও ময়লার দুর্গন্ধে উড়ালসড়কে আগে যেতাম না। এখন ছবি তোলতে গিয়েছি।

বিডি ক্লিন গাজীপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মোহাম্মদ কালিমুল্লাহ ইকবাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, "ঢাকা-টঙ্গী-গাজীপুর উড়াল সেতু প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের পথ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ফুলের বাগান ও দেয়ালে আঁকা নান্দনিক চিত্র পুরো কংক্রিটের কাঠামোকে জীবন্ত শিল্পকর্মে রূপ দিয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মতো পরিকল্পিত সৌন্দর্যায়ন গাজীপুরেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব—এই উদ্যোগ তারই প্রমাণ।"

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বিআরটি স্টেশনগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য করে তুলতে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই নয়, সেগুলোর পরিচর্যা ও নান্দনিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টঙ্গীর বিআরটি স্টেশনগুলোর এই রূপান্তর দেখিয়ে দিয়েছে—সদিচ্ছা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে অবহেলিত জনপরিসরও মানুষের জন্য নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত স্থানে পরিণত হতে পারে। আজ টঙ্গীর উড়াল সড়কের বিআরটি স্টেশনগুলো শুধু যাত্রী ওঠানামার স্থান নয়; বরং নগর সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে গাজীপুর মহানগরের আরও অনেক জনপরিসর এমন সবুজ ও নান্দনিক রূপে সেজে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।

(ঢাকাটাইমস/১৯ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাটে মিলল শত শত কোট–টাই ও বিলাসবহুল সামগ্রী
তানজিদের ব্যাটে জয়ের আশা জাগিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
ইরানের নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ডিএমপির মতবিনিময় সভা, জনবান্ধব সেবার ওপর জোর
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা