বেনজীরকে ফেরত দিতে বাংলাদেশের কাছে চার প্রশ্নের জবাব চাইল দুবাই পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭
অ- অ+

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে তাকে প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া নিয়ে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের পাঠানো একটি চিঠি ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে চিঠির জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত জবাব পাঠানো সম্ভব হলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণ চায়। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। এতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র সংযুক্ত ছিল।

সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে তা হলো—বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই।

এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি, পরোয়ানার কার্যকারিতা এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করছে—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পরে আদালতের নির্দেশে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়েন।

পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দুবাইয়ে তাকে আটকের ক্ষেত্রে তার কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। পরে একটি শপিং মল থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

(ঢাকাটাইমস/২০ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাতক্ষীরায় নিখোঁজ স্কুল শিক্ষার্থীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, গণপিটুনিকে নারী নিহত
ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার রিফাত শামীম বরখাস্ত
আমরা একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো: প্রধানমন্ত্রী
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা