সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আরবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়ক একটি ঐতিহাসিক চুক্তি বুধবার ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এমন সময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখনো ইরানের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
একই বিষয় দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনারও অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষর ও ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছরের এ চুক্তির একটি ধারার আওতায় সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে মার্কিন কোম্পানিগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধিতা করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এটি কার্যকর হতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার দাবি করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন পারমাণবিক চুক্তিকে একটি বৃহত্তর কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখছে।
এর আওতায় সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তবে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে না।
গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি জেনারেটরে ড্রোন হামলা হয়। এতে আগুন লাগে। এটি আরব বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আশঙ্কা বাড়ছে যে এ সংঘাত পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এ সপ্তাহে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছে। তারা সৌদি আরবের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
এ ঘোষণার পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এমন অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এতে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়ে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা মূলত সরাসরি সংঘাতের বাইরে রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































