ভারতজুড়ে জুলাইয়ের জেনজির বিক্ষোভ, মোদি সরকারের বিদায়ের ঘণ্টা!

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৭
অ- অ+

ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম এখন আলোচিত তরুণ আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরে সদস্য সংগ্রহের জন্য একটি নিবন্ধন ফরম প্রকাশ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারো মানুষ এতে যুক্ত হন। এরপর আন্দোলনটি দ্রুত বিস্তৃত হয়।

গত ১৯ জুলাই সংগঠনটি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ওই কর্মসূচিতে দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেই গ্রহণ করা হয়েছে। একটি শুনানিতে ভুয়া সনদধারী কিছু ব্যক্তিকে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করার পর আন্দোলনকারীরা সেই শব্দটিকেই প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

এ বছরের চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনায় সৃষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর দিল্লি পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রস্তাবিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় শত শত কৃষকও দিল্লিমুখী কর্মসূচি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পাঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বহু মানুষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন বলে আয়োজকদের দাবি।

বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

ইতোমধ্যে আন্দোলনটি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও সমর্থন পেয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফল প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারতের শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভও নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৩ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে খলিলুর-জয়শঙ্কর শুভেচ্ছা বিনিময়
হাইওয়ে পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা, ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনে জোর
টিপকাণ্ডের চার বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন চাকরিচ্যুত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল
ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা