সমুদ্রের ৬ কিলোমিটার গভীরে বিরল খনিজ উত্তোলনের পরীক্ষা চালাবে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২০:২২
অ- অ+

আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রতল থেকে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) উত্তোলনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা চালাবে জাপান। শুক্রবার দেশটি এ ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে সমুদ্রের ছয় কিলোমিটার গভীর থেকে নমুনা সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বায়ু টারবাইনসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত মূল্যবান এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, চলতি বছরের শুরুতে গভীর সমুদ্রে খননকারী জাহাজ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপের কাছে প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। তাতে ইট্রিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘ইট্রিয়াম বিশ্বে বিরল। এটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যন্ত্রের প্রলেপ তৈরির উপাদান, নির্গমন গ্যাসের ক্ষতিকর নাইট্রোজেন অক্সাইড পরিশোধনের অনুঘটক এবং সেমিকন্ডাক্টর ও মোটরগাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ।’

তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ খনিজ উত্তোলন পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

তাকাইচি আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।’

জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) পৃথকভাবে জানিয়েছে, সমুদ্রতল থেকে উত্তোলন করা ৫০ টন উপাদানে আরও দুটি বিরল খনিজ মৌল-গ্যাডোলিনিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে।

গত মার্চে তাকাইচি বলেছিলেন, টোকিও থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবালঘেরা মিনামি তোরিশিমা, যা মিনামিতোরিশিমা নামেও পরিচিত, তার আশপাশে খনিজ উত্তোলন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন।

আগের বিভিন্ন গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়েছে, ওই এলাকার সমুদ্রতলে কয়েক মিলিয়ন টন বিরল খনিজ থাকতে পারে। যা কয়েক শত বছর ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম।

তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সতর্ক কওে বলছে, গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরিশোধিত বিরল খনিজ উৎপাদনের ৯২ শতাংশই চীনের দখলে।

গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর জাপানে এসব খনিজের সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন।

মার্চে কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক লোকজনের বসবাস ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপকে পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবেও একটি প্রাথমিকভাবে জরিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: মাহদী আমিন
শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী করে গড়ে তুলতে চাই : শিক্ষামন্ত্রী
চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে সোমবার
লোহিত সাগর থেকে দুটি জাহাজ সরিয়ে নিচ্ছে জার্মান সামরিক বাহিনী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা