কাঁচা মরিচের ঝালে নাকাল ক্রেতারা, কেজি ছাড়ালো ৪০০ টাকা

টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে, ফলে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন (কচি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায়, আর পুরোনো (বুড়ো) কাঁচা মরিচের দাম ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা। অথচ মাত্র তিন দিন আগেও নতুন কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৪০ টাকা এবং এক সপ্তাহ আগে একই মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি খেত থেকে মরিচ সংগ্রহ ও বাজারে পরিবহনে সমস্যার কারণে সরবরাহ কমে গেছে। কাঁচা মরিচ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া পৌরবাজারের সবজি বিক্রেতা শফিক বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার অধিকাংশ সবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ফলে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।’
কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী জমির আলী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাজারে মরিচের সরবরাহ অনেক কম। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। ভারত থেকে মরিচ আমদানি না হলে দাম আরও বাড়তে পারে।’
দামের এমন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই রান্নায় কাঁচা মরিচের পরিবর্তে শুকনা মরিচ বা অন্য মসলা ব্যবহার করছেন।
ক্রেতা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আগে ১০০ টাকার মরিচ কিনতাম, এখন ৫০ টাকায় ২০-৩০টি মরিচ কিনে আনতে হয়। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
আরেক ক্রেতা শিশির বলেন, ‘সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এখন বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই-আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছিল। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মরিচের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
ক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
(ঢাকাটাইমস/২৮ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































