মেয়ের ছাগলচুরির ঘটনায় জড়িতদের ‘অমানুষ-পিশাচ’ বললেন আসিফ নজরুল

ছোট মেয়ের পোষা ছাগলচুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ‘অমানুষ, পিশাচ ও নির্মম’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ ছিল না, মজা করার জন্যই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অতিথি হয়ে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল।
ছাগলচুরির প্রসঙ্গ উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘ছাগলচুরি যে ব্যাপারটা, এটা আমি আসলে বলতে চাই না। এটা আমার জীবনে ঘটা অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা।’
তিনি বলেন, কেউ যদি বলে থাকেন প্রতিশোধ হিসেবে ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাহলে সেটি অত্যন্ত নির্মম কথা। তাঁর ভাষ্য, ‘পুরো ঘটনাটা জাস্ট মজা করে করেছে।’
আসিফ নজরুল জানান, ছাগলটি ছিল তাঁর সাড়ে নয় বছর বয়সী মেয়ের পোষা। মেয়েটি তখন হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় থাকত। সেখানে তার কোনো বন্ধুবান্ধব ছিল না। মেয়ের একাকিত্ব কাটানোর জন্যই ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ছাগলটি প্রতিদিন তাঁর মেয়ের স্কুলে যাওয়ার সময় অপেক্ষা করত। স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি মেয়ের ফোনে মায়ের ছবির পাশাপাশি ছাগলটিকে জড়িয়ে থাকা ছবিও রাখা ছিল।
ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, তাঁর মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিয়েছিল এবং প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারেনি। পরে মেয়েকে বলা হয়েছিল, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে।
আসিফ নজরুল বলেন, তাঁর মেয়ে এখনো জানে না ছাগলটি খাওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পারলে সে আরও ভেঙে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, প্রথমে বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটা যাচ্ছিল না। পরে কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি কাটা হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আলম ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তাঁদের সঙ্গে কোনো মতভেদ হয়নি বলেও জানান তিনি।
২০২৪ সালের শেষ দিকে রাজধানীর হেয়ার রোডে আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে তাঁর ছোট মেয়ের পোষা ছাগলটি চুরি যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













