ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ৯ দিন ধরে থানায় পোশাককর্মী, আপসের প্রস্তাব

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন এক পোশাককর্মী। অভিযোগ দেওয়ার পর ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। উল্টো অভিযুক্তের সঙ্গে আপসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ৪৪ বছর বয়সী নারী জামালপুরের বাসিন্দা। শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এলাকায় অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের (৫০) বাড়িতে ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন তিনি। আব্দুর রশিদ ওই এলাকার মৃত রহমত আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৯ আগস্ট রাতে বাড়ির মালিক কৌশলে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিচার চেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী। তাঁর দাবি, অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়ে একাধিকবার অভিযোগ সংশোধন করতে বলেন। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ সংশোধন করলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি।ভুক্তভোগী বলেন, “মামলা হবে—এমন আশ্বাসে বারবার থানায় গিয়েছি। এভাবে ৯ বার পর্যন্ত থানায় যেতে হয়েছে। পরে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনো মামলা হয়নি।” তাঁর আরও অভিযোগ, সর্বশেষ তাঁকে অভিযুক্তের সঙ্গে আপস করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্ত পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় আপস করাই ভালো—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ওই নারী ২৯ আগস্ট রাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এবং ৯ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তদন্তও করেছেন। রাখাল চন্দ্র দেবনাথের দাবি, “ভুক্তভোগী নিজেই আপসের কথা বলেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি, আসামিকে আটক করার পর মামলা করার বিষয়ে এগোনোর জন্য। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাইনি। অভিযুক্তের সঙ্গে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় তিনি আবার মামলা করতে এসেছেন।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র দেবনাথ দেখছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ রয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে পুলিশ কোনো পক্ষকে আপস করতে বলতে পারে না।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগী মামলা করতে চাইলে অবশ্যই মামলা হবে। কী কারণে এখনো মামলা হয়নি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(ঢাকা টাইমস/৩০সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










