ঝিনাইদহে মাছে চাষে সফল রফিকুল

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারানকান্দি গ্রামের মাঠজুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। ৮০ বিঘা জমির উপর খনন করা বিশাল জলরাশিতে চলছে মাছের চাষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কারিগর এক সময়ের সাধারণ কৃষক বর্তমান কৃষি উদ্যোক্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
একসময় এসব জমিতে ধান ছাড়া কিছুই হতো না। বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে ফসল মারা যেত। সেই অনাবাদি ও পতিত জমিকেই তিনি রূপান্তরিত করেছেন লাভজনক মৎস্য খামারে।
রফিকুল ইসলাম ৩ বছর আগে সাহস করে ৮০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে লোকসানের ভয় থাকলেও মৎস্য অফিসের পরামর্শ ও নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ তিনি সফল। তার খামারে এখন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের চাষ হচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে শ্রমিকরা জাল টানছেন। জালে ধরা পড়ছে বড়-ছোট বিভিন্ন ধরণের মাছ। ছোট মাছ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে আর বড় বড় মাছ ধরে বাজারের উদ্যেশে ড্রামে ভরা হচ্ছে। খামারের উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বড় সাইজের মাছ নিয়ে হাসিমুখে ড্রামে ভরছেন। এই খামারে স্থায়ীভাবে ১২ জন ও অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে ১০জন কাজ করছেন। মাছের খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সাথে জড়িয়ে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার। সব মিলে ৫০টি পরিবারের জীবিকা চলছে এই মৎস্য খামারের উপরে।
সফল উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ১৪ বছর আমেরিকা এম্বাসিতে চাকরি করেছি, পরে ভাবলাম নিজ এলাকায় যেয়ে কিছু বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কিভাবে, সেই ভাবনা থেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসে নিজের জমিতে কিছু করতে চেয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এখন বছরে খরচ বাদে ২৫-৩০ লাখ টাকা উপার্জন করছি। আমার দেখাদেখি এখন অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছে।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, রফিকুল ইসলাম আমাদের উপজেলার একজন মডেল মৎস্য খামারি। এককভাবে ৮০ বিঘা জমির এত বড় মৎস্য প্রকল্প এই জেলায় বিরল। আমরা তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রফিকুলের এই খামার থেকে বছরে কয়েকশ মণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব, যা দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
(ঢাকা টাইমস/৫অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










