প্লট দুর্নীতি: হাসেমের দুই ছেলেসহ সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানের ৭ বছর কারাদণ্ড

প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।
দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন বলেন, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে আট আসামিকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই ধারায় ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রতিটি ধারায় আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে আসামিদের সাত বছর করে কারাভোগ করতে হবে বলে জানান দুদকের এই কৌঁসুলি।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বলেন, আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার দিন তারা আদালতে হাজির হননি। এ কারণে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুই ছেলের নামে ১০ কাঠার দুটি প্লট
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈধ আবেদনকারীদের সুযোগ না দিয়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলকে ১০ কাঠা করে দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এসব অনিয়ম ঘটে।
শওকত আজিজ রাসেল আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর ভাই আশফাক আজিজ রুবেল পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।
প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরের বছর ২৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
বিচার চলাকালে আদালত নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













