আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা দেখি না: জাহেদ উর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২২
অ- অ+

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে পুনর্মিলনের আলোচনা হতে পারে না।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়টি অনেকে তুলেছিলেন। তবে এ ধরনের আলোচনার একটি মৌলিক শর্ত রয়েছে। গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের জন্য মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ যারা করেছে, তাদের বিচার তো হতে হবে। এগুলো ক্রিমিনাল অফেন্স। রিকনসিলিয়েশনের আলাপ হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কোনো কোনো জায়গায়, কারও কারও অপরাধের ক্ষেত্রে। সেই রিকনসিলিয়েশনের আলাপ হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অপরাধের দায় স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পরও দলটির আচরণে অনুতপ্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া, অনুতাপ দূরে থাকুক, তারা হুমকি দিচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের সহিংসতা নানানভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই অপরাধের দায় স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে দলটির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সেই সম্ভাবনাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘ন্যূনতম কোনো সম্ভাবনা যদি থেকে থাকে, সেটা আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল। কিন্তু আজকে আমরা যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, দুই বছর পার হয়ে গেছে এবং তাদের যে আচরণ, আমার মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট, সেটার আদৌ কোনো সম্ভাবনা আছে কি না। কোনো সম্ভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখি না।’

দায় স্বীকার করলেই পুনর্মিলন নয়

আওয়ামী লীগ অপরাধের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি পরবর্তী ধাপের আলোচনা। দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইলেই পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তিনি বলেন, ‘এগুলো করলেন, মানে এটার শর্ত না যে এটা করলে রিকনসিলিয়েশন শুরু, আলোচনা শুরু হতে পারে, মোটেও না। এটা করলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ শুরু করা যাবে কি না, সেই আলাপ হতে পারে।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ঘরে আগুন দেওয়ার আহ্বানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে। গত দুই বছরে দলটির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না।

তবে বিষয়টি এখনো তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ দায় স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নিলে তখন এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে

আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে কি না কিংবা দলটি টিকে থাকবে কি না, সেই বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ, শেষ দিনে প্রয়োজন ৪ উইকেট
জামালপুরে গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার
শেরপুরে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের আত্মহত্যা
ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৫৪