বিবিসির রেডিও সম্প্রচার বন্ধ করল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানজুড়ে এফএম রেডিও স্টেশন থেকে বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির তালেবান সরকার। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের’ কারণে বিবিসির রেডিও সম্প্রচার স্থগিত করা হয়েছে। তবে কী ধরনের লঙ্ঘন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে আফগানিস্তানে কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করার পর থেকে একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিবিসিই দেশটিতে সম্প্রচার চালিয়ে আসছিল।
এক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আফগানিস্তানজুড়ে লাখ লাখ মানুষ নির্ভুল সংবাদ ও তথ্যের জন্য বিবিসির ওপর নির্ভর করেন। পরিস্থিতি সমাধানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসি আরও জানিয়েছে, আফগানিস্তানের দর্শকদের জন্য পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় ন্যায্য ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রয়েছে। স্বল্পতরঙ্গ ও মধ্যম তরঙ্গের রেডিও, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এসব সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় বিবিসি। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ হওয়া মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান।
তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব গুফরান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিবিসি সংবাদমাধ্যমের বারবার কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে আপাতত সারা দেশে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ আফগানিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর তালেবান সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
দেশটিতে রেডিও ও টেলিভিশনে সংগীত সম্প্রচার করা হয় না। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে। এখন নারীরা আর পুরুষদের সঙ্গে একসঙ্গে সম্প্রচারে অংশ নিতে পারেন না।
আফগানিস্তানের মানুষ এখনও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। তবে দেশটির বড় অংশে বিদ্যুতের ঘাটতি, ইন্টারনেট ও অন্যান্য সেবার উচ্চ ব্যয় এবং স্বল্প সাক্ষরতার হার তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। বিবিসির আফগান পরিষেবা ১৯৮১ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













