স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হলো যুগ্মসচিব জসিম উদ্দীনকে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বদলি করা হয়েছে যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দীনকে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হকের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে পরিচিত জসিম উদ্দীনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে।
মহিবুল হক ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে (২২ এপ্রিল ২০১০ থেকে ৫ নভেম্বর ২০১২) জসিম উদ্দীন ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে মহিবুল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পান তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জসিম উদ্দীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর জসিম উদ্দীন ময়মনসিংহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। পরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে পদোন্নতি পেয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার যুগ্মসচিব ছিলেন।
অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন জসিম উদ্দীন। সরকার পরিবর্তনের পরও প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ২০০৫ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের ওসি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়নের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জসিম উদ্দীনের সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা থাকাকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে দোকানের পজিশন কেনেন তিনি। পরে ভোলায় একাধিক আধুনিক চিংড়ি হিমাগার গড়ে তোলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের বাড়ি সাজিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জসিম উদ্দীনের সঙ্গে সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হকের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে মহিবুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও সম্পদ জব্দের আদেশের পর। আদালতের আদেশে মহিবুল হকের নামে থাকা ২১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাগেরহাটের ফকিরহাট ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ছয়টি দলিলের মাধ্যমে থাকা তার ১ দশমিক ৭২ একর জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তার মেয়ে মোশরেকা মৌমিতা হকের নামে বাগেরহাটের ফকিরহাটে থাকা শূন্য দশমিক ১২৪৩ একর জমি এবং স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমের নামে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় থাকা ২ হাজার ৭০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটও জব্দের আদেশের আওতায় এসেছে।
মহিবুল হকের বিরুদ্ধে নেওয়া এসব আইনি পদক্ষেপের পর তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জসিম উদ্দীনের ভূমিকা ও সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রশাসনের ভেতরে থাকা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













