ডিজে পার্টির নামে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও আটক

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও আছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল বাড়িটিতে অভিযান চালায়। এ সময় মদ, গাঁজা, ইয়াবা, কনডম ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবনের অভিযোগ
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা পার্টির আয়োজন করতেন। এসব আয়োজনের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবন চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাড়িটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। অনলাইনে বুকিংয়ের মাধ্যমে কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া হতো। একটি কক্ষ একসঙ্গে ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নিতেন। অতিরিক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো বলে জানা গেছে।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত এসব পার্টি চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি আয়োজন হতো এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনলাইনে ভাড়া দেওয়া হতো বাড়ি
তিনতলা বাড়িটি প্রায় সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত। বাড়িটির একটি অংশ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া দিতেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। বাড়িটি দেখভালের জন্য মাহবুব আলম নামে একজন কো-হোস্টও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অনলাইনে বুকিংয়ের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অতিথিরা বাড়িটি ভাড়া নিতেন। কেউ সেখানে রাতযাপন করতেন, আবার কেউ আয়োজন করতেন ডিজে পার্টি। এসব আয়োজনের আড়ালে মাদক সেবন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ উঠেছে।
বাড়িটি থেকে আয়ের একটি বড় অংশ আব্দুল্লাহ আল জহিরের ব্যাংক হিসাবে জমা হতো বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ভাটারা এলাকায় সাড়ে ছয় কাঠা জমি কেনার অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
(ঢাকাটাইমস/২১ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













