শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কঠোর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি
অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম। এর অংশ হিসেবে বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের একটি সূত্র ঢাকা টাইমসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল করিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটটিকে ঢেলে সাজানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের ভেতরে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
প্রত্যাহার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বেতন-ভাতার বাইরে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ জন্য শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিআইজি বলেন, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়। আইজিপি স্যারেরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা রেঞ্জে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া খুলনা রেঞ্জের কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। কিন্তু আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পরও যদি কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত অসততার বিষয় থাকে না; বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির কাঠামোর দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে শুধু বদলি বা ক্লোজ করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
(ঢাকাটাইমস/৩০অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













