মহাপরিচালক
আনসার সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। পাশাপাশি সদস্যদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল, আবাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশনব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ‘অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সদস্যদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য ভাতা আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ডাকাতির চেষ্টা প্রতিহত করাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আনসার সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব সদস্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন ও আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মহাপরিচালক জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাঁদের ভূমিকা বাড়বে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণ যুগোপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, অস্ত্র পরিচালনা, নিরাপত্তাপদ্ধতি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় তাঁদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম হয়েছেন কুমিল্লার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে নোয়াখালীর মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হয়েছেন খাগড়াছড়ির মো. সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ ফল করা প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
কুচকাওয়াজ শেষে তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধবিষয়ক একটি নিরাপত্তা মহড়া প্রদর্শন করা হয়। মহড়া শেষে মহাপরিচালক বলেন, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্ক থেকে আসা প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













