শিরোনাম :

ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদে ৫ কোটি টাকার কাজ, প্রশ্নের মুখে এম এম এন্টারপ্রাইজ

কক্সবাজার প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৭
অ- অ+

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পটির যৌথ উদ্যোগের অংশীদার এম এম এন্টারপ্রাইজের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দরপত্রের যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন এক ব্যক্তি।

অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিলন মাহমুদ দরপত্রের শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে কাজটি পেয়েছেন। এ ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং কাজের বিল ছাড় করাতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সরবরাহ করা চুক্তি-পুরস্কারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘M M Enterprise JV’ নামে যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ টাকা। এতে এম এম এন্টারপ্রাইজের অংশ ৪৯ শতাংশ এবং Monir Engineering And Construction Ltd.-এর অংশ ৫১ শতাংশ।

দরপত্রসংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, দরপত্র নম্বর ১১৪১৮৪৮ এবং প্যাকেজ PSWSC-5586-এর টেন্ডার ডেটা শিটের (TDS) ১৫.১ ধারায় প্রধান ঠিকাদার, উপঠিকাদার অথবা ব্যবস্থাপনা ঠিকাদার হিসেবে ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের তারিখ থেকে অভিজ্ঞতার সময় গণনার কথা বলা হয়েছে।

যৌথ উদ্যোগের যোগ্যতাসংক্রান্ত ছকে ITT-15.1(a)-এর বিপরীতে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অংশীদারদের অভিজ্ঞতা যোগ করে যোগ্যতা পূরণের সুযোগ নেই। প্রধান অংশীদারের পাশাপাশি অন্য অংশীদারকেও পৃথকভাবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া TDS-এর ১৯.২ ধারায় যোগ্যতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে যৌথ উদ্যোগের দরপত্র প্রত্যাখ্যানের বিধান রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এম এম এন্টারপ্রাইজের প্রয়োজনীয় পাঁচ বছরের সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতা ছিল না। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোন অভিজ্ঞতার সনদ বা নথির ভিত্তিতে দরপত্রের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে মিলন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, কখনো সাংবাদিক, কখনো ঠিকাদার আবার কখনো পত্রিকার মালিক বা সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তিনি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা এবং কাজ অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় বিল ছাড়ের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, মিলন মাহমুদ বিভিন্ন প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে শেষ না করেই বিল আদায়ের জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের সপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী মনে করেন, পেকুয়ার ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রকল্পে এম এম এন্টারপ্রাইজের অভিজ্ঞতার সনদ, দরপত্র মূল্যায়ন এবং যৌথ উদ্যোগের যোগ্যতা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছরের সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতা কোন নথির ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে, তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজের দরপত্রে যোগ্যতার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁকে সহযোগিতা করা কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান কারাগারে, চাওয়া হয়নি রিমান্ড
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
খুলনায় নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী 
শিশু অধিকার সুরক্ষায় সংসদীয় ককাসের প্রথম বৈঠক, গুরুত্ব পেল আইন ও বাজেট বাস্তবায়ন