হজের সেঞ্চুরিতে
চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চতুর্থ দিন শেষে ৩১৫ রানে এগিয়ে ক্যারিবীয়রা

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাভেম হজের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছে ক্যারিবীয় দল। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলেছে তারা। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৮৬ রান করেছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ৩৫৬ রানে। এতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিয়ে বড় ব্যবধানের লিড গড়ে ফেলেছে সফরকারীরা।
দিনের শেষ ভাগে ১৮৯ বলে ১৪০ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন কাভেম হজ। তার ইনিংসে রয়েছে ১৭টি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে আমির জাঙ্গু অপরাজিত আছেন ৪৯ বলে ২০ রান করে। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬১ রান।
এর আগে তৃতীয় উইকেটে হজ ও কেভিন উইকহাম মিলে গড়েন ১৬৫ রানের জুটি। ১০৭ বলে ৭৮ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে উইকেট হারান উইকহাম। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। উইকহাম ফিরে গেলেও হজের ব্যাটে রান তোলার গতি কমেনি।
দিনের শুরুতে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ব্যাটেও ছিল ইতিবাচক ক্রিকেটের ছাপ। ৮৪ বলে ৬১ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। জশুয়া ডা সিলভা করেন ৩৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। তবে ২২ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে মিরাজ এবং ২৯ ওভারে ১১৮ রান দিয়ে তাইজুলকে বেশ লম্বা সময় বোলিং করতে হয়েছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩৮৬ রান। সেই ইনিংসে একাই আলো ছড়িয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ৩৫৯ বলে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা। বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম করেন ৩৪ এবং তাইজুল ইসলাম করেন ২২ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে নিয়েছেন চার উইকেট। জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ দুটি উইকেট পাননি? না, সিলস নিয়েছেন দুটি উইকেট। শামার জোসেফ ও জাস্টিন গ্রিভস একটি করে উইকেট নেন। তবে বাংলাদেশের ইনিংসে বড় অবদান ছিল হৃদয়ের।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল। ৯০ রান দিয়ে নিয়েছেন ছয় উইকেট। তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি উইকেট নেন। ক্যারিবীয়দের হয়ে আমির জাঙ্গু করেন ১৩৩ রান। কেভিন উইকহাম করেন ৬১ এবং জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান।
চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। তবে সিলেটের উইকেটে এখনো ব্যাটিং করা তুলনামূলক সহজ। বল কিছুটা ঘুরলেও সেই টার্ন ধীরগতির, ফলে ব্যাটসম্যানরা মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কতক্ষণ ব্যাট করবে এবং কখন ইনিংস ঘোষণা করবে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে বড় লিডকে কাজে লাগিয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













