আতঙ্কে নগরবাসী

রাজধানীতে সিরিজ ককটেল বিস্ফোরণ, স্কুলবাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩| আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪১
অ- অ+

রাজধানী ঢাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পল্লবী থানা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ভাটারায় একটি স্কুলবাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

একই রাতে রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও, পান্থপথ ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পল্লবী থানায় ককটেল বিস্ফোরণে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক সদস্য এবং মিরপুর-১১ নম্বরে নাভানা টাওয়ারের সামনে বিস্ফোরণে একজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ঘটনায় মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি পাশের ফ্লাইওভারের ওপর থেকে থানার ভেতরে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান। এতে এসআরবির এক সদস্য সামান্য আহত হন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই থানায় ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

একই সময় মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের সামনেও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পল্টন থানার ওসি আরিফুল আলম আরিফ। তিনি বলেন, বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাত আটটা ৩৫ মিনিটের দিকে মিরপুর-১ নম্বরে সনি হলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়। মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। টিএসসি, প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন এলাকা, উপাচার্যের বাসভবন-সংলগ্ন ভিসি চত্বর, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, মধুর ক্যানটিনের সামনে এবং নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া জগন্নাথ হলের কাছাকাছি, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হারুন জানান, ক্যাম্পাসে সাত থেকে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন। পরে আরও একজনকে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে দেন। পরে শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।

শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি জয়নাল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

একই রাতে পান্থপথেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি বলে জানা গেছে। এছাড়া মিরপুর-১১ নম্বরে নাভানা টাওয়ারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে একজন আহত হন। যাত্রাবাড়ীর কাজলা স্টেশন এলাকাতেও (ডেমরা রোড) ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ভাটারা এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীস রায় বলেন, বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা ও জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দক্ষিণখানে ১০ মামলার আসামি ফরহাদ দেওয়ান গ্রেপ্তার
লালবাগে বিপ্লব হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার
চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতা!
ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১