ভারতের রাম মন্দিরে কোটি টাকার অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় নির্মিত রাম মন্দিরকে ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোটি কোটি রুপির অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক অস্বস্তির মুখে পড়েছে। খবর আলজাজিরা’র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাম মন্দিরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট-এর বিরুদ্ধে অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান উপহার সামগ্রীর হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ বিভাগের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং প্রথম এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পরে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান এবং মূল্যবান সামগ্রী গায়েব হয়ে গেছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক জনঅসন্তোষ তৈরি হলে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে পুলিশ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান উপহার সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার পর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়-সহ কয়েকজন ট্রাস্টি পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে সাধারণ ভক্ত ও দাতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাদের দেওয়া সোনার গহনা, রুপার ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জবাব দাবি করছেন। অযোধ্যার বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতা সন্তোষ দুবেও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াই মনে করেন, এই অভিযোগ আগামী উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিষয়টির পূর্ণ সত্যতা সম্পর্কে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
(ঢাকাটাইমস/২৯ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































