তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে উদ্যোগ নেবে ডিএনসিসি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিএনসিসির সব অফিস, স্থাপনা ও পরিবহনে তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ সোমবার ডিএনসিসির সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিকরণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও কর্মশালায় জানানো হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
এতে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা পলি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন ২০২৬ সম্পর্কে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপও উপস্থাপন করেন।
শরিফুল ইসলাম বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে। এ ছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির সব অফিস, পরিবহন ও স্থাপনায় তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সতর্কতামূলক বার্তা ও তথ্যচিত্র তৈরিতে কারিগরি সহায়তা দেবে সংস্থাটি।
কর্মশালায় প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সমন্বিত উদ্যোগে একটি স্বাস্থ্যসম্মত, তামাক ও ধূমপানমুক্ত নগর পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































