অবুঝ শিশু রেখে ফরিদপুরে হাসপাতালে মায়ের মৃত্যু

ফরিদপুর ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ২৩:০৮ | প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ২২:০৩

গত শনিবার রাতে তিন বছরের অবুঝ শিশু মাইশাকে রেখে  ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌখিন বেগম ওরফে সখিনা নামে এক নারী মারা যান। সোমবার ওই নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের ফারুক বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বজনরা জেলা প্রশাসকের কাছে শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী নুরুজ্জামান ওরফে পঙ্কজ জানান, সৌখিন ওরফে সখিনা আমার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। সম্পর্কে আমার ভাতিজি হয়। কয়েক বছর আগে পরিবারের অমতে বিয়ে হওয়ার পর থেকে সৌখিনের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না।

পুলিশ ও হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে, দুজন অপরিচিত লোক গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অসুস্থ সৌখিনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।  তখন মায়ের সঙ্গে ওই শিশু মাইশা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সখিনা বেগমকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত নয়টার দিকে মারা যান। এরপর ওই শিশুটিকে কোথায় রাখা হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধবায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, শিশু মাইশা এখন হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স সাজেদা বেগমের কাছে আছে।

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সখিনার আরেক ছেলে সন্তান ১১ বছর বয়সী সোয়াদকে নিয়ে আসেন মো. আজাদ নামের এক ব্যক্তি। আজাদ শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে একটি অটো ওয়ার্কশপের মালিক। সোয়াদ ঐ দোকানে কাজ করে। তার মা তাকে ঐ দোকানে কাজ শেখার জন্য কিছু দিন আগে দিয়ে গেছে বলে ওয়ার্কশপ মালিক জানান। 

জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার উপস্থিতে হারানো মাইশা তার ভাই সোয়াদকে ফিরে পায়। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বাচ্চা দুটির বাবার খোঁজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নিষ্পাপ শিশু দুটির বাবার খোঁজ চলছে। আশা করছি আগামীকাল এ বিষয়ে একটি সমাধান হয়ে যাবে। এদের পরিচয়হীন থাকতে দেয়া হবে না। বিষয়টি পত্রিকায় আসার পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ফোনে ওদের খোঁজ নিচ্ছে। অনেকে মাইশার দায়িত্ব নিতে চাইছে। মানবতা এখনো হারিয়ে যায়নি। ওদেরকে সমাজে হারিয়ে যেতে দেব না । ওদের পড়াশোনারও ব্যবস্থা করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৪এপ্রিল/প্রতিনিধি/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত