আমলা-রাজনীতিকরা বিদেশে গাড়ি-বাড়ি করছে: প্রিন্স মুসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ মে ২০১৭, ২৩:৪৫ | প্রকাশিত : ০৭ মে ২০১৭, ২৩:৩৯

দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী শমসের বিন মুসা ওরফে প্রিন্স মুসা অভিযোগ করেছেন, দেশের অবৈধ আয়কারী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদরা অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার বিদেশে পাচার করছে। সেখানে গড়ে তুলছে গাড়ি-বাড়িসহ বিপুল সম্পদ। তারা এত টাকা কোথায় পান সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই অবৈধভাবে একটি দামি সরেঞ্জ রোভার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগে রবিবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তথ্য অধিদপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় প্রিন্স মুসাকে। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হরে কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তার একজন ব্যক্তিগত নারী দেহরক্ষী মুসার লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের হাতে ধরিয়ে দেন। সেখানে এই দুর্নীতিবাজ আমলা-রাজনীতিকসহ আরো নানা অভিযোগ কেরেন প্রিন্স মুসা।

তাতে প্রিন্স মুসা হুন্ডিকে দেশের ভয়ংকর সমস্যা বলে উল্লেখ করেন। সরকারি চাকরিতে ঘুষ, জঙ্গি, অবৈধ ভিওআইপি, স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির বিষয়ও তুলে ধরেন লিখিত বক্তব্যে। তিনি দেশের রাস্তায় যে এত এত গাড়ি চলে, তার বেশির ভাগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

প্রিন্স মুসা বলেন, ‘একটি ভয়ংকর সমস্যা হচ্ছে হুন্ডি ব্যবসা। অধিকাংশ ব্যবসায়ী বৈধ ও অবৈধভাবে দেশে ব্যবসা করে দেশের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা অর্জন করছে। আবার তারাই অবৈধভাবে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাড়ি-গাড়ি কিনে সম্পদের পাহাড় গড়ছে।’

‘এটা ওপেনসিক্রেট’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রিন্স মুসা বলেন, ‘প্রতিটা নাগরিক দেশ থেকে বছরে মাত্র পাঁচ হাজার ডলার বৈধভাবে নিতে পারে। এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারী ব্যবসায়ীদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিদেশে গড়ে তুলছে টাকার পাহাড়। তারা এত লক্ষ লক্ষ ডলার পায় কোথায়..? তাদের বাপ-দাদার জমিদারি ছিল সেই দেশে...?’

জঙ্গি সমস্যাকে বর্তমানে দেশের মারাত্মক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রিন্স মুসা একে সাময়িক সমস্য বলছেন। তবে তার মতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঘুষ, আর তার প্রভাব পড়ছে মেধাবীদের ওপর। মুসা বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রকৃত মেধাবী সোনার সন্তানেরা আজ সরকারি চাকরির সব রকম সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একমাত্র যোগ্যতা হল অবৈধ অর্থ। সেখানে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ছাড়া কোনো চাকরি মেলা দুঃস্বপ্ন। দেশে প্রকাশ্যে দিবালোকে এতো জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সকল দুর্নীতিবাজরা যারা সরকারি চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ আদান-প্রদান করে তারা আমাদের দেশ ও জাতির অস্তিত্বের জন্য বিশাল হুমকি।’

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করাকে অপমান ও হয়রানি বলে অভিযোগ করেন ‘বাকশক্তি লোপ পাওয়া’ মুসা। নিজেকে একজন সৎ ব্যবসায়ী দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ বলেন বর্ণনা করেন তিনি দাবি করেন, বিদেশে মানবসম্পদ রপ্তানির মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য অফুরন্ত ভান্ডার গড়ে দিয়েছেন।

মুসার বক্তব্য, ‘দীর্ঘ নয় মাস যাবত আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে আক্রান্ত। এর সাথে আমার বাকশক্তিও লোপ পেয়েছে। আমি কী এমন অপরাধ করছি..? যার কারণে আমায় জাতির সামনে বারবার এইভাবে অপমান আর হয়রানি করা হচ্ছে। আমার দ্বারা কখনোই দেশের, সরকারের, কোনো ধর্মের ক্ষতি হয় নাই। এমনকি আমি কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপিও নই। আমি কারো প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বীও নই।’

তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তাঁর সহায়তায় এককভাবে জনশক্তি রপ্তানি খাত সৃষ্টি করে সফলভাবে অর্জন করেছি জাতির জন্য অফুরন্ত সম্পদের ভান্ডার। আমি দেশের জন্য যে অবিশাস্য অবদান রেখেছি তা অবশ্য কমবেশি সকলেই জানে।’

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে প্রিন্স মুসা বলেন, ‘দেশে আরও একটি সমস্যা হল স্বাস্থ্য খাত। চরম দুর্নীতিতে ভরে গেছে এই সেক্টর। সাধারণ মানুষ এখন সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। আরও একটি সমস্যা হল মানুষের সামান্য সর্দি-কাশি হলেই চিকিৎসা করতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর, ব্যাংককসহ বিভিন্ন দেশে। সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে পাচার হয় চিকিৎসার মাধ্যমে। এটি দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক সমস্যা। এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

‘দেশে যানজট একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুই পাশে অবৈধ গাড়ি পার্কিং করে দুর্বিষহ করে তুলছে জনজীবন। কোথা থেকে আসে এত গাড়ি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, ঢাকা শহরের ৬৫ শতাংশ গাড়ি অবৈধ। এসব গাড়ি মালিকদের বৈধ ও দৃশ্যমান কোনো উপার্জন নেই। এই সমস্যার সমাধান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’

দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিপুল আয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রিন্স মুসা। তিনি তাদের চিহ্নিত করছেন লুটেরা হিসেবে। ‘প্রতিটি মোবাইল কোম্পানি প্রতিদিন বিনা কারণে পত্রিকা ও স্যাটেলাইট টিভিতে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এরা নিশ্চই ভিওআইপি ও বিদেশি লুটেরার দল। আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে এত স্পর্ধা ও প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হত না।’

‘আমি বিশ্বাস করি কোনো দেশের উন্নয়নের নামে গণতন্ত্র বিসর্জন দেয়া যাবে না। এই দেশে দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। টাকা পাচারকারীরা দেশ ও জাতির সবচেয়ে জঘন্যতম শত্রু। অবশ্যই এই পাচারকারীদের অন্যান্য দেশের মত এই দেশেও মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তবেই এই দেশে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।’

শেষে তার ভক্তদের উদ্দেশে নিজের বাণী তুলে ধরেছেন মুসা। ‘বিশ্বের শত শত কোটি ভক্তদের উদ্দেশে আমার চিরন্তণ বাণী হল: ‘মনে রেখো তোমার মেধাই তোমার প্রভু। সুতরাং তোমরা মেধা দিয়ে বিচার কর এবং সমাধান বের কর। এই সব ভয়ঙ্কর সমস্যায় জর্জরিত তোমাদের দেশ ও তোমাদের জাতির বর্তমান ভবিষ্যৎ।’

(ঢাকাটাইমস/০৭মে/এসও/মোআ)
 

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত