ইউডা’র রঙ তুলিতে ২৫ মার্চের ‘কালরাত্রি’

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:১৩ | প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০৬

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। সেদিন রাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে পাকিস্তানি হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর। হত্যা করে হাজার হাজার ঘুমন্ত বাঙালিকে। বর্বরচিত সে রাতটি ইতিহাসে জায়গা পেয়েছে ‘কালরাত্রি’ হিসেবে।

৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণ করলেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) শিক্ষার্থীরা। পিচ ঢালা পথে পথে রঙ-তুলির আঁচড়ে তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরের সে ‘কালরাত্রি’র চিত্র।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিবছরের মত পথচিত্র অঙ্কনে অংশ নেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ছয়টায় পথচিত্র অঙ্কনের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদ।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সড়কের অর্ধাংশ জুড়ে আঁকা হয় সে রাতের নানা চিত্র। বর্তমান প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সে রাতে পাক হানাদারদের নির্মমতার সাথে। অনুষ্ঠানে ইউডার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যোগ দেয়  ‘সিফাত’ ফাউন্ডেশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্কুল অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সোডা), কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা) ও সমতার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদ বলেন, ‘২৫ মার্চ দিনটি এখনো আমার স্মৃতিতে জাগরুক। ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে সেদিন হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আমরা এরপর থেকে লড়াই, সংগ্রাম করে দীর্ঘ ৯ মাস পর স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ৭২’র শুরু থেকে পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন আমাদের আড়ালে ছিল।’

সিফাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়্যারমান অধ্যাপক মুজিব খান বলেন, ‘জাতীয় গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতির দাবিতে এ প্রতিষ্ঠান সব সময় সোচ্চার ছিল। আগামীতেও আন্তর্জাতিকভাবে দাবি আদায়ের বিষয়ে এ প্রতিষ্ঠান সোচ্চার থাকবে।’

স্বাধীনতা দিবস পালনের আগে ২৫শে মার্চ কালরাতে শহীদদের স্মরণ করার তাড়না থেকে প্রতিবছর এ পথচিত্রসহ নানা অনুষ্ঠান হাতে নেয়া হয় বলে তিনি জানান। বলেন, ‘আমরা প্রায় দুই যুগ ধরে ২৫ মার্চের শহীদদের স্মরণে ও গণহত্যা দিবসের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করে আসছি। যাদের রক্তে আমরা স্বাধীন হয়েছি তাদেরকে স্মরণ না করে পরের দিন ২৬ মার্চ পালন করার বিষয়টি আমাদের ভালো লাগতো না। বিবেকের কাছে অন্যায় মনে হতো। সেই তাড়না থেকেই আমরা এই কাজটি করে এসেছি।’

প্রায় দুই দশক ধরে সিফাত ফাউন্ডেশন ও এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়য়ে গণহত্যা দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের নেতৃত্বে রাত ভর পথচিত্র অঙ্কনে অংশ নেন অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরাও। একাত্তরের ভয়াল রাতের চিত্র দেখতে সোডা, কোডা, ইউডা ও সমতার পাশাপাশি মানিক মিয়া এভিনিউতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ।

ঢাকাটাইমস/২৬মার্চ/কারই/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :